প্রচারের ব্যস্ততায় সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় নিচ্ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এ বার আর দেরি না করে ১৬ তারিখ শুরু হওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশনে লোকসভার পুনর্বিন্যাস এবং মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলটিকে ভোটাভুটিতে পরাজিত করতে ঝাঁপানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল। মহিলা সংরক্ষণে সমর্থন অথচ লাগোয়া আসন পুনর্বিন্যাসে প্রবল বিরোধিতা ঠিক কোন পথে করা হবে তা নিয়ে অন্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গে সমন্বয়ও করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও'ব্রায়েন। আগামী ১৫ তারিখ দিল্লিতে এই বিষয়টি নিয়ে পথ খুঁজতে কংগ্রেসের ডাকা বিরোধীদের বৈঠকে যোগ দেবে তৃণমূল। সংশোধনী বিলটি পাশ করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন কেন্দ্রের। তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী, সংসদে সরকারকে হারাতে বিশেষ বেগ পেতে হবে না।
মোদী সরকার ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকে তিন ভাগের এক ভাগ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার ব্যবস্থা করতে ১৬-১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। কিন্তু সেই সংরক্ষণ করতে গিয়ে নতুন জনগণনার ফলের জন্য অপেক্ষা না করে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে মর্জিমাফিক লোকসভা ও বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে সংসদে আপত্তি তোলার সিদ্ধান্ত প্রথম নিয়েছিল কংগ্রেস। তৃণমূলও আজ বলছে, মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাসকে আলাদা ভাবেদেখা হোক।
আজ ডেরেক বলেন, ‘‘প্রথমত এটা স্পষ্ট করে বলতে হবে যে মহিলা সংরক্ষণের মোড়কে সরকার আসলে আসন পুনর্বিন্যাস বিল রূপায়িত করতে চলেছে। কিন্তু আমরা তা হতে দেব না। সবাই জোটবদ্ধ। এইদু’টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মহিলা সংরক্ষণের নামে আনা মিথ্যা ভাষ্যকে ছিঁড়ে ফেলব সংসদে।" সমস্যা হল, যেহেতু একের সঙ্গে অন্যকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, এই বিলের বিরুদ্ধে বিরোধীরা সক্রিয় হলে সরকার নারী বিরোধী তকমা লাগানোর সুযোগ পেয়ে যাবে। ডেরেকের কথায়, "মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে বিজেপি কী প্রচার করবে, তাতে আমাদের ভয় পাওয়ার কারণ নেই। কারণ, মহিলাদের ক্ষমতায়ন এবং প্রতিনিধিত্ব তৃণমূলের শক্তির জায়গা। ১৯৯৮ সালে লোকসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম এই আইন চেয়েছিলেন। পরবর্তীকালে লোকসভায় মহিলা সাংসদ প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে সব দলের মধ্যে তৃণমূলই অনেক এগিয়ে থেকেছে বরাবর।" এটাও তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিজেপি তৃণমূলকে মহিলা বিল নিয়ে নিশানা করলে বিপদে পড়বে, কারণ একে একে মোদী এবং তাঁর দলের 'নারীবিদ্বেষী' কাজকর্ম এবং মন্তব্যের ঝাঁপি খুলতে থাকবে মমতার দল।
প্রসঙ্গত, আজ কংগ্রেসের তরফে তিন লাইনের হুইপ দিয়ে আগামী ১৬ থেকে তিন দিন লোকসভার সাংসদদের বিশেষ অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। তৃণমূল এখনও হুইপ জারি করেনি। তবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা অকংগ্রেসি বিরোধী দলগুলির সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সর্বাত্মক সমন্বয়ের মধ্যে রয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)