মারমুখী সনিয়া গাঁধীকে কাবু করতে এ বারে সাড়াশি আক্রমণ শুরু করল বিজেপি।
ইউপিএ জমানায় ভিভিআইপি হেলিকপ্টার দুর্নীতিতে বিজেপি সনিয়া গাঁধীর নাম নিতেই গতকাল থেকে পাল্টা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন খোদ কংগ্রেস সভানেত্রী। স্পষ্ট বলে দেন, তিনি কাউকে ভয় পান না। বিজেপি তাঁর চরিত্র হননের কৌশল নিয়েছে। উত্তরাখণ্ডে রাষ্ট্রপতি শাসনের বিরোধিতা করে সনিয়া ও রাহুল গাঁধী আগামী মাসের গোড়ায় যন্তরমন্তর থেকে সংসদ ভবনে পদযাত্রাও করবেন।
এই পরিস্থিতিতে কপ্টার-দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগের তির একমাত্র সনিয়া গাঁধীর দিকে রেখেই ঘুঁটি সাজাচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্ব। এক দিকে সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর মতো গাঁধী-বিরোধী নেতাকে দিয়ে সনিয়াকে লাগাতার আক্রমণের কৌশল নেওয়া হয়েছে। আজ বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ সরাসরি নিজে আসরে নেমে পড়েছেন। অন্য দিকে, সুপ্রিম কোর্টেও সনিয়ার বিরুদ্ধে একটি জনস্বার্থ মামলা করা হয়েছে। যার শুনানি হবে সামনের সপ্তাহে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পার্রীকর জানান, ইতালির আদালতের কপি এসে গিয়েছে। সেটি হিন্দি ও ইংরেজিতে অনুবাদ করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন- ভোটের মাঝেই কোর্টের ধাক্কা, সিভিক পুলিশ নিয়োগে স্থগিতাদেশ
রাজ্যসভায় সুব্রহ্মণ্যম স্বামী আজ আরও একবার কপ্টার দুর্নীতি নিয়ে বলার সুযোগ নিতেই গোটা কংগ্রেস শিবির হল্লা করে তা থামিয়ে দেয়। কিন্তু তিনি পরে বলেন, ‘‘সনিয়া গাঁধী ঘুষের টাকা পেয়েছেন। সেটি জেনিভার সারাসিন ব্যাঙ্ক ও কিছু অর্থ পিকটেট ব্যাঙ্কে রাখা হয়েছে। এই ব্যাঙ্কের থেকে তথ্য নিলেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) যাবতীয় হদিস পাবে।’’ স্বামী যখন সরাসরি আক্রমণ করছেন, সেই সময় দলের সভাপতি অমিত শাহ আজ রাজনৈতিক আক্রমণে নামলেন। তিনি বলেন, ‘‘ইতালির আদালতে প্রমাণ হয়েছে, ঘুষ দেওয়া হয়েছে। ঘুষ কে নিয়েছেন, তার জবাব দিন সনিয়া গাঁধী। আর সনিয়া গাঁধী বলছেন, কাউকেই ভয় পান না। কিন্তু আমরা সংবিধান ও লোক-লাজে ভয় পাই। সনিয়া গাঁধী কাউকে ভয় পান না বলেই একের পর এক দুর্নীতি হয়ে গিয়েছে।’’
এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা করে সনিয়া গাঁধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও সনিয়া গাঁধীর রাজনৈতিক সচিব অহমেদ পটেলের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যবস্থার দাবি করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুর এই মামলার শুনানি করবেন আগামী সপ্তাহে। অহমেদ পটেল অবশ্য আজ বলেছেন, ভিভিআইপি হেলিকপ্টারের সঙ্গে জড়িত কোনও ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কোনও দিনই বৈঠক হয়নি। এঁদের চেনেনই না তিনি। ইতালি থেকে যে ‘এপি’ নামে একটি সাঙ্কেতিক নাম রয়েছে, সেটি তিনি নন। আনন্দ শর্মার বক্তব্য, ইউপিএ জমানাতেই এই কপ্টার সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সিবিআই এবং ইডির তদন্ত শুরু হয়েছে। যে তিনটি কপ্টার এসেছিল, সেগুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আর যাবতীয় পাওনাগণ্ডা বুঝে নেওয়া হয়েছে।
কিন্তু অরুণ জেটলির বক্তব্য, এই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এনডিএ সরকার আসার পর। আর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ ইউপিএ সরকার দিয়েছে একেবারে শেষবেলায়। তাদের সরকার চলে যাওয়ার সময়। কারণ, তারা বুঝে গিয়েছিল, এনডিএ-ই এ বারে সরকারে আসছে। ফলে কংগ্রেসের বক্তব্য ঠিক নয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, ইউপিএ সরকার কালো তালিকাভুক্ত করার পরেও এই সংস্থাকে মোদী সরকার মেক-ইন-ইন্ডিয়াতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, নতুন কোনও বরাত তাদের দেওয়া হয়নি। পুরনো কাজগুলিই শুধুমাত্র বহাল রয়েছে।
তবে বিজেপি নেতারা বলছেন, গত দু’বছর সংসদে গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলি পাশ করানোর জন্য সনিয়া গাঁধীর দ্বারস্থ হয়েছে সরকারপক্ষ। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সনিয়া-মনমোহনকে রেসকোর্সে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তার পরেও পণ্য ও পরিষেবা কর-সহ সংস্কারের বিলগুলিতে সম্মতি দেয়নি গাঁধী পরিবার। জমি বিলও আটকে দিয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনেও পণ্য ও পরিষেবা বিল পাশের সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই পরিস্থিতিতে সরাসরি টক্কর নেওয়ার কৌশলই বাঞ্চনীয়। আর এক বার সনিয়া গাঁধীকে চাপে রাখতে পারলে উত্তরাখণ্ড নিয়েও বেশি ফোঁস করতে পারবেন না তাঁরা।