E-Paper

গলল না বরফ, ব্রিকস বৈঠকে অধরা যৌথ বিবৃতি

বৈঠকে উপস্থিত ইরানের বিশেষ প্রতিনিধিরা, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে বাকি দেশগুলির সমর্থন চান। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যৌথ বিবৃতিতে এ হেন ভাষ্য রাখতে নারাজ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৭
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে ব্রিকস-এর দিকে চেয়ে রয়েছে বিশ্ব। নিজেকে ‘বিশ্বগুরু’ প্রমাণের দায় ব্রিকস-এর এ বারের সভাপতি রাষ্ট্র ভারতের। আগামী মাসেই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক বসবে নয়াদিল্লিতে। কিন্তু তার আগে নয়াদিল্লিতেই বসা গত দু’দিনের ব্রিকস-এর কূটনৈতিক বিশেষ প্রতিনিধি ও প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকটি কার্যত ব্যর্থ হল। চেষ্টা সত্ত্বেও যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছন গেল না, যুযুধান দুই সদস্য রাষ্ট্র ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বরফ গলল না। সূত্রের খবর, ইজ়রায়েল নিয়েও কিছুটা নরম মনোভাব দেখিয়েছে ভারত। সব মিলিয়ে ব্রিকস-এর মধ্যস্থতার সম্ভাবনা যথেষ্ট ক্ষীণই বলে জানাচ্ছে কূটনৈতিক শিবির।

বৈঠকে উপস্থিত ইরানের বিশেষ প্রতিনিধিরা, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে বাকি দেশগুলির সমর্থন চান। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই সংযুক্ত আরব আমিরশাহি যৌথ বিবৃতিতে এ হেন ভাষ্য রাখতে নারাজ। তবে নয়াদিল্লির দাবি, বৈঠকে গাজ়া নিয়ে আলোচনায় মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বিষয়ে একমত সদস্যেরা। লেবাননের যুদ্ধবিরতিকেও স্বাগত জানানো হয়। গাজ়া নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারতও। ইজ়রায়েল ও প্যালেস্টাইনের দীর্ঘ সংঘাতের অবসানের জন্য দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা। ব্রিকস-এর একাধিক দেশ শার্ম আল-শেখে শান্তি সম্মেলনের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে বলে জানা গিয়েছে।

যদিও মোদী সরকারকে ইজ়রায়েলপন্থী বলে নিশানা করে আজ সরকার পক্ষের এই ব্যর্থতাকে সামনে নিয়ে আসরে নেমেছে কংগ্রেস। দলের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, “গত দু’দিন ব্রিকস-এর কূটনৈতিকদের বৈঠক যৌথ বিবৃতি ছাড়াই শেষ হল। ইরান এবংসংযুক্ত আরব আমিরশাহি উভয় রাষ্ট্রই ব্রিকস-এর ১১ সদস্য বিশিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য। তারা যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নেবে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। তবে যেটা লজ্জাজনক এবং বেদনাদায়ক তা হল ইজ়রায়েল এবং প্যালেস্টাইন সংক্রান্ত ভাষ্যকে লঘু করার চেষ্টা করেছে ভারত এবং সেটাও একটি কারণ যৌথ বিবৃতি না হওয়ার। যা রাশিয়া, চিন, দক্ষিণ আফ্রিকা,ব্রাজ়িল, ইথিয়োপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি মেনে নেয়নি।’’ জয়রামের বক্তব্য, বিশ্বে এক মাত্র ভারতই অন্যতম বড় দেশ যে ইজ়রায়েলের প্রতি নরম মনোভাব নিয়ে চলছে। যে ইজ়রায়েল গাজ়ায় গণহত্যা করে চলেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবংইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টই আত্মিক সম্পর্কে যুক্ত!

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BRICS West Asia US-Israel vs Iran Central Government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy