পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যেই আমেরিকার প্রতিরক্ষা কর্তা এলব্রিজ কোলবি পৌঁছলেন ভারতে। আজ এক সম্মেলনে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমেরিকার গর্বিত হওয়ার মতো কৌশলগত ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতের সিদ্ধান্ত এবং পদক্ষেপের উপর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যত নির্ভর করছে। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক ভূমিচিত্রও অনেকটাই নির্ভরশীল।”
আমেরিকার বক্তব্য, কোলবির সফরের উদ্দেশ্য দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সমঝোতার যুক্তিগ্রাহ্য, সমন্বয়পূর্ণ কাঠামো তৈরি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদীর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির যৌথ বিবৃতিতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আমেরিকা-ভারত প্রতিরক্ষা অংশীদারির কাঠামো বাস্তবায়নের উপরে কোলবির এই সফর মূলত কেন্দ্রীভূত থাকবে।
কূটনৈতিক শিবিরের মতে, এলব্রিজের এই সফর পূর্ব নির্ধারিত আলোচ্যসূচির উপরেই ভিত্তি করে হচ্ছে। তার সঙ্গে সরাসরি পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এমন সময়ে তিনি এলেন, যখন পাকিস্তান ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছতে চেষ্টা করছে মধ্যস্থতার দাবি নিয়ে এবং বিনিময়ে কিছুটা সুবিধা আদায় করে নিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের হাতে এমন কিছুই নেই যাতে ইরান এবং ইজ়রায়েলকে মধ্যস্থতার টেবিলে বসাতে পারে। এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আজ কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা বঢরা বলেন, “আগে নরেন্দ্র মোদী নিজেকে বিশ্বগুরু বলতেন! দাবি করতেন, তিনি একাই শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারেন। আর এখন অবস্থা কী, তা সবাই জানেন।”
সিপিএম-এর রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস তাঁর প্রশ্নে বিদেশ মন্ত্রকের লিখিত উত্তরকে চিহ্নিত করে বলেছেন, “ভারত ১২০ মিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যেই চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ করে ফেলেছ, যাতে আফগানিস্তান এবং মধ্য এশিয়ায় কৌশলগত সংযোগ তৈরি করা যায়। এখন সরকার নিজেই আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার নিরিখে অনিশ্চয়তার কথা স্বীকার করছে। ভারতের কৌশলগত স্বার্থ বাইরের রাষ্ট্রের অনুমতির উপর নির্ভরশীল থাকাটা ঠিক নয়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)