অসুস্থ হয়ে বেশ কিছু দিন হাসপাতালে কাটানোর পরে শনিবার রাতে মারা গেলেন প্রবীণ সিপিআই নেতা অর্ধেন্দুভূষণ বর্ধন। বয়স হয়েছিল ৯২।
বাঙালি হলেও বর্ধনের রাজনৈতিক জীবন শুরু মহারাষ্ট্রে। সেখান থেকেই তিনি শ্রমিক সংগঠন ও বাম রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৭ সালে নির্দল প্রার্থী হিসেবেই ভোটে জিতে মহারাষ্ট্র বিধানসভায় যান। শ্রমিক সংগঠন এআইটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদেও ছিলেন তিনি। দিল্লি আসেন নব্বইয়ের দশকে। প্রথমে সিপিআইয়ের উপ-সাধারণ সম্পাদক, তার পর ১৯৯৬ সালে ইন্দ্রজিৎ গুপ্তের পর সাধারণ সম্পাদকের পদে বসেন বর্ধন। ২০১২ পর্যন্ত তিনিই ওই পদে ছিলেন।
গত ৭ ডিসেম্বর দিল্লির জি বি পন্থ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল বর্ধনকে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা প্রথম থেকেই সঙ্কটজনক ছিল। এত দিন তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত কাল থেকে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের বদলে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই শ্বাস নিচ্ছিলেন। শনিবার হঠাৎই তাঁর অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। রক্তচাপ কমে যায়। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ মারা যান তিনি।
বরাবরই স্পষ্টবাদী হিসেবে পরিচিত বর্ধন সাম্প্রতিক অতীতে পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের ভুলভ্রান্তি নিয়ে একাধিক বার মুখ খুলেছেন। বামফ্রন্টে সিপিএমের ছড়ি ঘোরানো নিয়েও দিল্লি থেকে সরব হতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। কিন্তু অন্য বাম দলের সব নেতার সঙ্গেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল মধুর।
কংগ্রেসের নেতারাও বর্ধনের মতামতকে বরাবর গুরুত্ব দিয়েছেন। আজ বর্ধনের প্রয়াণের পর সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘‘আমরা ওঁর বিচক্ষণতা, অভিজ্ঞতা এবং পথনির্দেশিকার অভাব বোধ করব।’’ টুইটারে শোক জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধী বলেন, ‘‘শুধু সিপিআই-ই নয়, জাতি এক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারাল।’’