Advertisement
২৯ মে ২০২৪
National news

বুলন্দশহরে পুলিশ খুনের পিছনে বজরং-ভিএইচপি যোগ! গ্রেফতার পাঁচ, শহরে ১৪৪ ধারা

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশি সংঘর্ষের বলি হন সুবোধ। সুবোধকে প্রথমে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। এর পর দুষ্কৃতীরা তাঁর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে গুলি করে।

ইনস্পেক্টর সুবোধ কুমার সিংহকে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বজরং দলের নেতা যোগেশ রাজ। ছবি: সংগৃহীত।

ইনস্পেক্টর সুবোধ কুমার সিংহকে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বজরং দলের নেতা যোগেশ রাজ। ছবি: সংগৃহীত।

সংবাদ সংস্থা
বুলন্দশহর শেষ আপডেট: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮ ১৪:১৬
Share: Save:

বুলন্দশহরে গো-রক্ষকদের তাণ্ডব এবং পুলিশ ইনস্পেকটর খুনের ঘটনায় বিজেপি, বজরং দল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং শিবসেনার কর্মীরা জড়িত। তদন্তে নেমে এমনটাই দাবি করেছে পুলিশ। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় যে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই ওই দলগুলির কর্মী বলেই তদন্তকারীদের দাবি।

মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার করা হয় যোগেশ রাজ নামে এক ব্যক্তিকে। তিনি বুলন্দশহর জেলার বজরং দলের প্রধান। পাশাপাশি তিনি উত্তরপ্রদেশে যুব বিজেপি মোর্চার সদস্যও। সোমবার ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন যোগেশ। এ দিন সকালে যোগেশ ছাড়াও আরও চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা উপেন্দ্র রাঘব, বিজেপি যুবমোর্চা দলের শিখর আগরওয়াল।

রাজ্য পুলিশের এডিজি প্রশান্ত কুমার জানিয়েছেন, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার জন্য একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। কেন ঘটনার পর সহকর্মীরা মৃত ইনস্পেক্টর সুবোধকুমার সিংহকে ফেলে রেখে গেলেন, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

(আজকের তারিখে গুরুত্বপূর্ণ কী কী ঘটেছিল অতীতে, তারই কয়েক ঝলক দেখতে ক্লিক করুন— ফিরে দেখা এই দিন।)

ইনস্পেক্টর সুবোধ কুমার সিংহ। ছবি: পিটিআই।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, তাণ্ডবকারীদের অধিকাংশই বজরং দল, হিন্দু যুব বাহিনী এবং শিবসেনার মতো দক্ষিণপন্থী দলের সদস্য।২৭ জনের নামে নির্দিষ্ট ভাবে অভিযোগের পাশাপাশি ৬০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এফআইআর করেছে পুলিশ। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গোটা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘মার মার করে ওরা ছুটে আসছিল, প্রাণ বাঁচাতে স্যরকে ছেড়েই পালাই’

বুলন্দশহর-কাণ্ডে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ছবি: পিটিআই।

উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে বছর তিনেক আগে মহম্মদ আখলাক নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে মারা হয়। এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) আনন্দ কুমার জানিয়েছেন, ৪৭ বছরের সুবোধকুমার সিংহ দাদরি-কাণ্ডের প্রথম তদন্তকারী আধিকারিক ছিলেন। তিনি বলেন, “২০১৫-র ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ওই মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সুবোধ।” তাঁর দাবি, দাদরি-কাণ্ডের তদন্তে নেমে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন ওই ইনস্পেকটর। গো-হত্যার গুজবে খুন হওয়া মহম্মদ আখলাকের বাড়ির ফ্রিজ থেকে মাংসের নমুনাও সংগ্রহ করেন তিনি। ওই তদন্তের মাঝপথেই তাঁকে বারাণসীতে বদলি করা দেওয়া হয়। মাস দুয়েক আগে বদলি হয়ে বুলন্দশহরের স্যানায় দায়িত্ব নেন তিনি।

ঘটনার পরের দিন শহরে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। ছবি: পিটিআই।

সোমবার উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরের স্যানা মহকুমাএলাকায় মাহু গ্রামের বাইরে জঙ্গল লাগোয়া একটি মাঠে প্রচুর গরুর মাংস পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে গুজব রটে। গো-হত্যার প্রতিবাদে ওই মাংস ট্রলি-ট্র্যাক্টরে ভরে সাতসকালেই এলাকায় পথ অবরোধ-বিক্ষোভ শুরু হয়। খবর পেয়ে সেই অবরোধ সরাতে সেখানে পৌঁছন সুবোধকুমার সিংহ-সহ পুলিশকর্মীরা। মুহূর্তেই বিক্ষোভ-প্রতিবাদ তাণ্ডবে পরিণত হয়। ওই তাণ্ডবের পুরোভাগে ছিলেন যোগেশ। মূলত তাঁর নেতৃত্বেই গোটা ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশের অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশি সংঘর্ষের বলি হন সুবোধ। সুবোধকে প্রথমে ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। এর পর দুষ্কৃতীরা তাঁর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে গুলি করে মারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, সুবোধের বাঁ-চোখের নীচে গুলির ক্ষত ছিল। সুবোধ ছাড়াও স্থানীয় এক জন মারা যান।

আরও পড়ুন: গো-হত্যার গুজবে উত্তপ্ত বুলন্দশহর, বিক্ষোভের বলি এক ইনস্পেক্টর-সহ ২

জ্বলছে অশান্তির আগুন। গো-হত্যার গুজবে উত্তপ্ত বুলন্দশহর। সোমবার পিটিআইয়ের তোলা ছবি।

সুবোধের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারকে ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে যোগী সরকার। তাঁর মা-বাবাকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সুবোধের পরিবারের এক সদস্যকে সরকারি চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল বলেন, “উত্তরপ্রদেশেই এমনটা হচ্ছে কেন? সরকার তো পুলিশকর্মীদেরই সুরক্ষা দিতে পারছে না।”

জেডিইউ নেতা পবন বর্মার দাবি, “হিংসা ও ঘৃণার ভিত্তিতে রাজনীতি এবং ধর্মকে মেলানো হচ্ছে। এমনটা হলে এই পরিণতিই হবে।”

আরও পড়ুন: মোদী-অমিত জমানায় গুজরাতে ‘ভুয়ো’ সংঘর্ষ ফের সিঁদুরে মেঘ!

বিজেপি নেতা মুখতার আব্বাস নকভি অবশ্য জানিয়েছেন, “বুলন্দশহরের ঘটনা মানবিকতার পক্ষে লজ্জাজনক। দোষীদের শাস্তিতে কড়া ব্যবস্থা নেবে বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।”

(দেশজোড়া ঘটনার বাছাই করা সেরাবাংলা খবরপেতে পড়ুন আমাদেরদেশবিভাগ।)

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE