Advertisement
E-Paper

‘পাকিস্তানের মতো দালাল নই আমরা’, মোদীর অনুপস্থিতিতে সর্বদল বৈঠকে দাবি করল কেন্দ্র, প্রশ্নে তৃণমূলের গরহাজিরা

১১ মাস আগে পহেলাগাঁও সন্ত্রাসের পরে সর্বদল বৈঠকে গরহাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবারেও বৈঠকে যোগ দেননি তিনি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ২২:৩৬
(বাঁ দিক থেকে) সংসদে অমিত শাহ, এস জয়শঙ্কর এবং রাজনাথ সিংহ।

(বাঁ দিক থেকে) সংসদে অমিত শাহ, এস জয়শঙ্কর এবং রাজনাথ সিংহ। ছবি: পিটিআই।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া উচিত, কারণ এটি সবাইকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে— বুধবার সর্বদল বৈঠকে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে এই দাবি করল কেন্দ্র। বৈঠকে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধে পাকিস্তানের তথাকথিত মধ্যস্থতার প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমরা পাকিস্তানের মতো দালাল রাষ্ট্র নই।’’

১১ মাস আগে পহেলাগাঁও সন্ত্রাসের পরে সর্বদল বৈঠকে গরহাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবারেও বৈঠকে যোগ দেননি তিনি। অথচ বিরোধী দল তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি কেন বৈঠকে আসেননি, তা নিয়ে কটাক্ষ করেন সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। পরে তৃণমূলের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ যার জবাব দিয়েছেন। সমাজমাধ্যমে ভিডিয়ো-বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘‘পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক সর্বদল বৈঠকে আমরা যোগদান করিনি, তার কারণ এই নয় যে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছি। আমরা যোগদান করিনি আমাদের নীতিগত অবস্থানের কারণে। এলপিজি সঙ্কটের এই সময়ে, যখন সংসদ অধিবেশন চলছে, তখন সরকারকে অবশ্যই সংসদের অধিবেশনে একটি পূর্ণ ও অবাধ আলোচনার সুযোগ দিতে হবে। কোনও কনফারেন্স রুমের রুদ্ধদ্বার কক্ষে নয়।’’

জয়শঙ্কর, রিজিজুর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ ছিলেন বুধবারের সংসদ ভবন কমপ্লেক্সে আয়োজিত বৈঠকে। যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের মধ্যস্থতার চেষ্টা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু নেই, কারণ ১৯৮১ সাল থেকে ওই দেশটিকে আমেরিকা ‘ব্যবহার’ করে আসছে। সংঘাতপর্বে মোদী সরকার ওয়াশিংটনের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে বিরোধীরা অভিযোগ তুললে তা খারিজ করে তিনি বলেন, ‘‘ইরানের দূতাবাস খোলার পরেই বিদেশসচিব দ্রুত সেখানে যান এবং শোকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।’’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার (আয়াতোল্লা খামেনেই) মৃত্যুতে শোক জানাতে ভারতের দেরি হওয়াকে নৈতিক দুর্বলতা বলে বিরোধীরা যে অভিযোগ করেছে, তা সরাসরি খারিজ করেন জয়শঙ্কর।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে মোদী সরকার এখনও পর্যন্ত সফল বলেও জানান তিনি। যদিও বিরোধীরা বলেছে, বৈঠকে সরকারের দেওয়া উত্তর ‘অসন্তোষজনক’ এবং তারা লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয় কক্ষে পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্কের দাবি জানিয়েছে। সরকারের সমালোচনা করে কংগ্রেসের তারিক আনোয়ার বলেন, ‘‘পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, আর আমরা এখনও নীরব দর্শক।’’ সেই সঙ্গে তাঁর দাবি, লোকসভায় বিধি ১৯৩ অনুযায়ী এবং রাজ্যসভায় বিধি ১৭৬ অনুযায়ী এই পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক হওয়া উচিত। মোদীর পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ তথা বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও গরহাজির ছিলেন বুধবারের বৈঠকে। রাহুল এবং তৃণমূলের সদস্যদের পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠকে অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী বলেন, ‘‘এটি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ।’’

Rajnath Singh S jaishankar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy