Advertisement
E-Paper

প্রথম দফার বৈঠকে ইরানের কাছে কী চাইবে আমেরিকা? কিসের বিনিময়ে? নজরে হরমুজ়, সঙ্গে আরও দুই চাহিদা

প্রথম দফার আলোচনায় বসে ইরানের কাছে নির্দিষ্ট কিছু দাবি জানাতে পারে আমেরিকা। তার বিনিময়ে দেওয়া হতে পারে তেহরানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাবও।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ১৪:১৬
(বাঁ দিকে) আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং সুইৎজ়ারল্যান্ডে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং সুইৎজ়ারল্যান্ডে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি (ডান দিকে)। ছবি: রয়টার্স।

আমেরিকা-ইরানের মউ স্বাক্ষরের পর প্রথম দফার শান্তিবৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে সুইৎজ়ারল্যান্ডে। তাতে যোগ দিতে পৌঁছে গিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনিও ইউরোপে চলে গিয়েছেন। সূত্রের খবর, ইরানের কাছে প্রথম দফার আলোচনায় বসে বিশেষ কিছু দাবি জানাতে পারে আমেরিকা। তার বিনিময়ে দেওয়া হতে পারে তেহরানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রস্তাবও।

সুইৎজ়ারল্যান্ডে আমেরিকা-ইরানের আলোচনার কেন্দ্রে অবশ্যই থাকবে হরমুজ় প্রণালী। প্রাথমিক ভাবে মউ স্বাক্ষরেই ওই জলপথ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ। কিন্তু তার পরেও সংঘাত থামেনি। লেবাননে ইজ়রায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার আচমকা ফের হরমুজ় বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে তেহরান। আমেরিকার অবশ্য দাবি, হরমুজ়ে পণ্যবাহী জাহাজ পরিবহণ স্বাভাবিক রয়েছে। ইজ়রায়েলকেও লেবাননে হামলা থামাতে বলেছে ওয়াশিংটন। ফলে প্রথম দফার আলোচনায় হরমুজ় এবং লেবাননের সঙ্কটের প্রসঙ্গ উঠবেই।

ইরানের যে পরমাণুকেন্দ্রগুলি আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, সেগুলি পরিদর্শনের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাক তেহরান, চায় ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়স দু’টি আঞ্চলিক সূত্র উল্লেখ করে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রথম দফার বৈঠকে এই দাবি জানাতে পারেন ভান্সরা। এর পরিবর্তে ইরানের বেশ কিছু বাজেয়াপ্ত তহবিল মুক্ত করতে পারে আমেরিকা। তহবিল মুক্ত করার কাজ শুরু হতে পারে কাতারে আটক ইরানের ৬০০ কোটি ডলারের অ্যাকাউন্ট দিয়েই। মানবিক সহায়তার সামগ্রী কেনার জন্য এই অর্থ খরচ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে, দাবি রিপোর্টে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা, ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। সেই থেকে পশ্চিম এশিয়া উত্তপ্ত। ইউরোপে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে পর পর হামলা চালিয়ে গিয়েছে ইরান। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হরমুজ় প্রণালীর জাহাজ চলাচলও। এই পরিস্থিতিতে কিছু দিন আগে তেহরানের সঙ্গে শান্তি সমঝোতা চূড়ান্ত করে আমেরিকা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে ১৪ দফার মউ স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

মউ অনুযায়ী, ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা এবং ইরান। এই সময়ের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কার্যকলাপ, তহবিল মুক্তি এবং লেবাননে ইজ়রেয়ালি আগ্রাসন নিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজবেন দুই দেশের নেতারা। আমেরিকা ও ইরানের সমঝোতায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। রবিবার পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও সুইৎজ়ারল্যান্ডে গিয়েছেন। তাঁরা শান্তিবৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

আমেরিকার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভান্স। সুইৎজ়ারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে তিনি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘আমি দু’এক দিনের জন্য সুইৎজ়ারল্যান্ডে থাকতে পারব। আশা করি, পরমাণু প্রসঙ্গে আমরা কিছুটা কাজ এগোতে পারব। লেবাননের সংঘর্ষবিরতির বিষয়েও আলোচনায় অগ্রগতি হবে বলে আশা রাখছি।’’

Switzerland US Iran Peace Deal Donald Trump JD Vance Tehran
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy