ভিএসআর অ্যাভিয়েশন সংস্থার বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট-৪৫ বিমানে চড়ে মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার। অবতরণের সময় বিমানটি ভেঙে পড়ে। অজিত-সহ বিমানে থাকা পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে গত আড়াই বছরে ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের বিমান দু’বার দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। তা নিয়ে মুখ খুলেছেন সংস্থার মালিক ভিকে সিংহ।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুম্বই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভেঙে পড়েছিল ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের একটি ব্যক্তিগত বিমান (প্রাইভেট জেট)। পর পর দুর্ঘটনার ফলে এই সংস্থার বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিকে অবশ্য তা মানতে নারাজ। তাঁর সংস্থার অধীনে এখন সাতটি বিমান রয়েছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও বিমানই বাতিল করা হবে না। কারণ, সব ক’টি বিমান উড়ানের উপযুক্ত, কোথাও কোনও গলদ নেই। অজিতের বিমানটিতেও কোনও প্রযুক্তিগত গলদ ছিল না বলেই দাবি করেছেন ভিকে। মানতে চাননি পাইলটের ভুলের তত্ত্বও।
আরও পড়ুন:
বুধবারের বিমান দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে ভিকে বলেছেন, ‘‘আমাদের বিমানে কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না। খুব ভাল ভাবে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। কেন আমরা বাকি বিমানগুলিকে বসিয়ে দিতে যাব? সব ক’টিই ফিট। এমন কোনও সিদ্ধান্ত আমরা নিইনি।’’
মার্কিন প্রযুক্তিবিদ বিল লিয়ারের নামে লিয়ারজেটের নামকরণ করা হয়েছে। এই বিমানগুলি সুইৎজ়ারল্যান্ডের যুদ্ধবিমানের আদলে তৈরি। সর্বোচ্চ আট থেকে ন’জনের বসার জায়গা রয়েছে। বর্তমানে দিল্লির সংস্থা ভিএসআর অ্যাভিয়েশন এই ধরনের বিমান পরিষেবা দেয়। অজিতের বিমানটিতে পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত কপূর। ফার্স্ট অফিসার হিসাবে ছিলেন শাম্ভবী পাঠক। ভিকে জানিয়েছেন, দু’জনেই অভিজ্ঞ পাইলট। এই ধরনের ব্যক্তিগত বিমান চালানোর ক্ষেত্রে তাঁরা পারদর্শী ছিলেন। ক্যাপ্টেন সুমিত ১৬ হাজার ঘণ্টার বেশি বিমান চালিয়েছেন। শাম্ভবীর অভিজ্ঞতা ১৫০০ ঘণ্টার কাছাকাছি। দুর্ঘটনার জন্য দৃশ্যমানতার অভাবকেই দায়ী করেছেন সংস্থার মালিক।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বারামতীতে প্রথম বারের চেষ্টায় নামতে পারেনি অজিতের বিমানটি। তা এক বার চক্কর কেটে ফের অবতরণের চেষ্টা করে। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল পাইলটের। তিনি এটিসিকে জানিয়েছিলেন, রানওয়ে দেখতেই পাচ্ছেন না। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল, খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেও গিয়েছে। ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।