ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের মাঝে ছয় ভারতীয় গ্রেফতার হয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। সেই রিপোর্ট খারিজ করে দিল তেহরান। তথ্যের জন্য ‘বিশ্বাসযোগ্য’ সূত্রের উপর নির্ভর করার আর্জি জানিয়েছেন ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত।
পশ্চিম এশিয়ার দেশ ইরানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তাঁরা পথে নেমেছেন। ক্রমে তা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক বিদ্রোহের আকার নিয়েছে। এই আবহে ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘‘কিছু বিদেশি এক্স অ্যাকাউন্টে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে যে খবর ছড়িয়ে পড়েছে, তা সর্বৈব মিথ্যা। আগ্রহীদের বলব, খবরের জন্য বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের উপর নির্ভর করুন।’’ নিজের পোস্টের সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির পোস্ট ট্যাগ করে সেটিকে ‘ভুয়ো’ বলে জানিয়েছেন ফাথালি। ওই পোস্টে লেখা ছিল, ইরানে পুলিশ ১০ জন আফগান এবং ছ’জন ভারতীয়কে গ্রেফতার করেছে। তাকেই ‘ভুয়ো’ বলে জানিয়েছেন ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত।
গত ২৮ জানুয়ারি থেকে ইরানে গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি (প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র) জনগণকে গণপ্রতিবাদে নামার ডাক দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর পরেই শুরু হয় কঠোর দমন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুক্রবার রাত থেকে প্রতিবাদীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালাতে শুরু করে পুলিশ। উঁচু বহুতলের ছাদ থেকে নীচে নির্বিচারে গুলি চালানো হতে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সোমবার পর্যন্ত ইরানে ৫৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত দু’সপ্তাহে আটক হয়েছেন ১০,৬০০ জন। আমেরিকার একটি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য উদ্ধৃত করে এই পরিসংখ্যান জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এপি। তারা জানিয়েছে, গত কয়েক দিন ইরানে ৪৯৬ জন প্রতিবাদী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তারক্ষী নিহত। তবে এই নিয়ে ইরানের প্রশাসন কিছু জানায়নি। এই আবহে খবর ছড়ায়, ইরানে ছ’জন ভারতীয়ও গ্রেফতার হয়েছেন। সেই রিপোর্ট নস্যাৎ করেছেন ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত।
রেজা ইরানের নিরাপত্তারক্ষীদেরও প্রতিবাদীদের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন। ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ফোন লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবাদীরা। ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক উপগ্রহ ট্রান্সমিটার ব্যবহার করে বিক্ষোভের ভিডিয়ো ইরানের বাইরে পাঠাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।
এই আবহে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তাঁর বাহিনী ইরানে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ করতে পারে। সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। এমনকি, ইরান থেকে পরমাণু-সমঝোতার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান থেকে তাঁকে ফোন করা হয়েছিল। সমঝোতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজনও করছেন ট্রাম্প। কিন্তু তার পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, বৈঠকের আগেও তাঁর বাহিনীকে পদক্ষেপ করতে হতে পারে। যে ভাবে বিক্ষোভকারীদের উপর ইরানে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করছে প্রশাসন, তার ভিত্তিতে মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন ট্রাম্প।
পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের কালিবাফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজ়রায়েলকে। তিনি জানিয়েছে, ইরানে হামলা হলে ইজ়রায়েল (যাকে ‘দখলিকৃত’ ভূখণ্ড বলেছেন) এবং পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক কেন্দ্র, ঘাঁটি, জাহাজকে ‘নিশানা’ করা হবে।