এক রাতের মধ্যে অশান্তি ছড়ানোর গোটা পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলা হয়েছিল। রাতারাতি পুরো ছক কষে ফেলে শ্রমিকদের মধ্যে বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তদন্তের পর এমনই দাবি করল পুলিশ। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, রাতারাতি বেশ কয়েকটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল। কিউআর কোড ব্যবহার করে সেই গ্রুপে শ্রমিকদের যুক্ত করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, সমস্ত শ্রমিক সংগঠনের কাছেও বার্তা পাঠানো হয়েছিল রাতারাতিই। রবিবার রাতেই বিক্ষোভের ভূমিকা তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন নামে বেশ কয়েকটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করা হয় শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য। তার মধ্যে ‘ওয়ার্কার্স মুভমেন্ট’ নামে একটি হোয়াট্সঅ্যাপ গ্রুপকে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই গ্রুপগুলিতে উস্কানিমূলক তথ্য, বার্তা ছড়ানো হয়েছে, যাতে বিক্ষোভকে চরম মাত্রায় পৌঁছে দেওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
পুলিশ জানিয়েছে, এই বিক্ষোভে ‘বহিরাগত’রা শামিল হয়েছিল। বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার পর জেলার বাইরে থেকে এবং সীমানা এলাকা হয়ে বহু লোক ঢুকে পড়েন। তাঁরাই বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়েছিলেন এবং অশান্তিকে জেলার নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দেন। সেই দলের কয়েক জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরও তল্লাশি চলছে।
প্রসঙ্গত, বেতন বাড়ানোর দাবিতে সোমবার শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নয়ডা। দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। কোথাও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়, কোথাও আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৩০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবারেও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সেক্টর ৮০। মূলত সেক্টর ৬২ এবং ফেজ় ২-তে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। তার পর সেই বিক্ষোভ শহরের অনেক জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। আনুমানিক ৪৫ হাজার শ্রমিক রাস্তায় নামেন। দিল্লি থেকে নয়ডার সংযোগকারী অধিকাংশ রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় এই অশান্তির জেরে। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।