এক দিকে নরেন্দ্র মোদী। অন্য দিকে প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা। মোদীর বিপরীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বিহারের মহিলা ভোটব্যাঙ্ক দখলের লড়াইয়ে শুক্রবার বিজেপি বনাম ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চসম্মুখ সমরে নামল।
মহিলাদের স্বনির্ভর হতে বিহারে এককালীন ১০ হাজার টাকা অর্থসাহায্যের প্রকল্প চালু করে আজ প্রধানমন্ত্রী বিহারের মহিলাদের বার্তা দিলেন, ‘‘নরেন্দ্র ও নীতীশ আপনাদের দুই ভাই।’’ পাল্টা জবাবে প্রিয়ঙ্কা পটনায় প্রতিশ্রুতি দিলেন, বিরোধীদের জোট ক্ষমতায় এলে মহিলাদের প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া হবে। সঙ্গে থাকবে ২৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ভূমিহীন পরিবারের জন্য ৩ থেকে ৫ ডেসিমেল পর্যন্ত জমি। যার মালিকানা থাকবে বাড়ির মহিলার নামে। প্রিয়ঙ্কা বলেছেন, ‘‘বিজেপি ও নীতীশ সরকার কোনও দিনও মহিলাদের এই সম্মান দেবে না।’’
প্রধানমন্ত্রী আজ বিহারে মুখ্যমন্ত্রী মহিলা রোজগার যোজনা চালু করেছেন। রাজ্যের ৭৫ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা পৌঁছে গিয়েছে। প্রিয়ঙ্কা প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ বছর সরকারে থাকার পরে ঠিক ভোটের আগে কেন মহিলাদের ভোট কিনতে টাকা দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই প্রশ্ন তুলে নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এ সব ভোটের আগে রাজনৈতিক চমক, কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়। বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ফারাক হল, তৃণমূল গত নির্বাচনে জেতার পরেই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেছিল। লোকসভা নির্বাচন কবে আসবে, তার জন্য অপেক্ষা করেনি।
মোদী আজ ভিডিয়ো কনফারেন্সে মহিলাদের প্রকল্প চালু করে আরজেডি-কে নিশানা করেছেন। অভিযোগ তুলেছেন, বিহারে আরজেডি-র জমানায় কেউ নিরাপদ ছিল না। মহিলাদের সবথেকে বেশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। আরজেডি নেতাদের অত্যাচারও দেখেছেন মহিলারা। সেই জমানা আর যেন ফিরে না আসে। নীতীশের রাজত্বে মহিলারা নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন। এখন মহিলাদের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
জবাবে প্রিয়ঙ্কা পটনায় ‘মহিলা সংবাদ’-এ মহিলাদের সমস্যা তুলে ধরেছেন। একাধিক মহিলা তাঁর সামনে হাজির হয়ে বিহারে মহিলাদের নিরাপত্তার অভাব তুলে ধরেছেন। এরপরে মোতিহারিতে জনসভা করে প্রিয়ঙ্কা বিহারি কায়দায় বলেছেন, ‘‘কা হাল বা? হাল বদলের সময়চলে এসেছে।’’
বিরোধীদের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদী আগে সাধারণ মানুষের হাতে টাকা বিলিকে খয়রাতি বলে ‘রেউড়ি বিলি’ তকমা দিয়েছিলেন। এখন বিজেপি ভোটের আগে টাকা বিলি করছে। উল্টো দিকে বিজেপির অভিযোগ, এই টাকা মহিলাদের ছোটখাটো ব্যবসা শুরু করার জন্য দেওয়া হচ্ছে। যাতে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন। আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব মোদীকে নিশানা করে বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী বিহারের মানুষকে বোকা ভাববেন না। উনি কেন্দ্রীয় তহবিল থেকে এক নয়া পয়সাও দেননি। বিহার সরকার ইন্ডিয়া জোটের মাই বহেন যোজনার প্রতিশ্রুতি নকল করে মহিলাদের ১০ হাজার টাকা দিচ্ছে। ভোটের পরে আবার টাকা ফিরিয়ে নেবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)