ক্যাব বুক করে সারাদিন ঘোরেন। পরে ভাড়া চাইতে গেলেই হুমকি। শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান চালককে। এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে হরিয়ানার গুরুগ্রামের এক মহিলার বিরুদ্ধে। ক্যাবচালকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা নাগাদ ঘটনার সূত্রপাত। গুরুগ্রামের ক্যাবচালক জিয়াউদ্দিন যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেই সময়েই ক্যাব বুক করেন জ্যোতি দালাল নামে এক মহিলা। চালকের দাবি, ক্যাবে ওঠার পরে মহিলা বার বার তাঁর গন্তব্য বদল করতে থাকেন। প্রথমে মহিলা জানান, তিনি গুরুগ্রামের সেক্টর ৩১-এ যাবেন। সেখানে পৌঁছোনোর পরে বলেন তিনি একটি বাসস্ট্যান্ডে যাবেন। তার পরে সেখান থেকে সাইবার সিটিতে নিয়ে যেতে অনুরোধ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে এ ভাবেই গুরুগ্রামের বিভিন্ন রাস্তায় ক্যাবে ঘুরতে থাকেন মহিলা। মাঝে খাবার কেনার জন্য ক্যাবচালকের থেকে তিনি টাকাও নেন বলে অভিযোগ।
গুরুগ্রামের এক থানায় জিয়াউদ্দিন অভিযোগ করেন, “ওই মহিলা আমার কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলেন। আমি তাঁকে ৭০০ টাকা দিই। তিনি বেশ কয়েকটি জায়গায় গাড়ি থেকে নেমে খেয়েছেন। সেই টাকা আমাকেই দিতে হয়েছে। পরে বিকেলে যখন আমি ভাড়া-সহ সেই টাকা ফেরত চাই, তখনই তিনি খেপে যান।” ক্যাবচালকের অভিযোগ, ওই মহিলা তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ারও হুমকি দেন। চুরি এবং শ্লীলতাহানির মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ও দেখান বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যে জ্যোতির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এফআইআরও রুজু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পরে জানা গিয়েছে ওই মহিলা আগেও এই ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই একই মহিলার একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তখনও এক ক্যাবচালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসায় জড়ান তিনি। এ বারও জিয়াউদ্দিনকে ক্যাবের ভাড়াবাবদ ২০০০ টাকা দিতে চাননি তিনি। সম্প্রতি একটি সালোঁয় তিনি ২০ হাজার টাকার প্রতারণা করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। স্থানীয় থানার তরফে জানানো হয়েছে, এফআইআর রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। শীঘ্রই ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানায় তারা।