সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছিল সরস্বতী এবং হরিশের। কিন্তু বিয়ের দু’মাস পরেই প্রেমিক শিবকুমারের সঙ্গে পালিয়ে যান সরস্বতী। স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার পরই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হরিশ। বৃহস্পতিবার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। একটি সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সেখানে তাঁর মৃত্যুর জন্য কয়েক জনকে দায়ী করে গিয়েছেন। ঘটনাটি কর্নাটকের।
হরিশকে নিয়ে যখন সকলে ব্যস্ত, তখনই খবর আসে সরস্বতীর কাকা রুদ্রেশ আত্মঘাতী হয়েছেন। হরিশের মৃত্যুর সঙ্গে সরস্বতীর কাকার কী সম্পর্ক রয়েছে, এই প্রশ্ন ঘুরতে থাকে পড়শিদের মধ্যে। তখনই জানা যায়, সরস্বতীর জন্য হরিশকে পাত্র হিসাবে বেছে দিয়েছিলেন রুদ্রেশই। অর্থাৎ তিনি এই বিয়ের ঘটকালি করেছিলেন। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সরস্বতীর পালানোর খবর শুনে অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন রুদ্রেশ। ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি নিজে হাতে হরিশকে পাত্র হিসাবে বেছেছিলেন। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হরিশ এবং সরস্বতীর দু’হাত এক করেছিলেন। কিন্তু সরস্বতীর পালানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি।
পুলিশ সূত্রে খবর, সরস্বতী পালানোর পর থেকেই মানসিক অস্থিরতার মধ্যে ছিলেন রুদ্রেশ। তার পর বৃহস্পতিবার যখন তিনি খবর পান হরিশ আত্মঘাতী হয়েছেন, তার পরই রুদ্রেশের দেহ উদ্ধার হয়। রুদ্রেশের আত্মীয় এবং পড়শিদের দাবি, লোকলজ্জার ভয়ে এই পদক্ষেপ করেছেন রুদ্রেশ। পুলিশ জানিয়েছে, গত ২৩ জানুয়ারি মন্দিরে যাওয়ার অছিলায় বেরিয়ে যান সরস্বতী। তার পর আর শ্বশুরবাড়িতে ফেরেননি। একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু পর যখন হরিশ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা জানতে পারেন সরস্বতী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছেন, হুলস্থুল পড়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বিয়ের আগে থেকেই শিবকুমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সরস্বতীর। হরিশও সে বিষয়ে অবগত ছিলেন। কিন্তু সরস্বতীকে বুঝিয়ে বিয়েও করেন। রুদ্রেশ সেই বিয়ের বন্দোবস্ত করেছিলেন। সরস্বতীর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, রুদ্রেশ কেন আত্মঘাতী হলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা-ও জানার চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, সরস্বতী পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই রুদ্রেশ বাড়ি থেকে বেরোনো বন্ধ করে দেন। লোকজনের সঙ্গেও কথা কম বলতেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। হরিশের পরিবারের তরফেও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের করা হয়। তার পর গ্রেফতার করা হয় সরস্বতীকে। তবে তাঁর প্রেমিক পলাতক।