দিল্লির শতাব্দীপ্রাচীন জিমখানা ক্লাবে উচ্ছেদের নোটিস পেয়ে দিশাহারা কর্মীরা। ওই ক্লাবে প্রায় ৫০০ জন কর্মচারী রয়েছেন। অধিকাংশই পুরনো, দুই বা তিন দশক দরে কাজ করছেন। আচমকা কেন্দ্রের নোটিস যাওয়ায় ক্লাবটি বন্ধ হতে চলেছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁদের ভবিষ্যৎ। চাকরির বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে নিশ্চয়তা চান জিমখানা ক্লাবের এই কর্মচারীরা। ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফেও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে কেন্দ্রকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
দিল্লির লোককল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছেই ২৭.৩ একর (প্রায় ৮৭৩ কাঠা) জমি জুড়ে রয়েছে অভিজাত জিমখানা ক্লাব। ব্রিটিশ আমলে এই ক্লাব তৈরি করা হয়েছিল। কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের পর ব্রিটিশ কর্তাদের আমোদপ্রমোদ, মনোরঞ্জন ছিল এর উদ্দেশ্য। গত ২২ মে এই জিমখানা ক্লাবকে নোটিস ধরিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন সংক্রান্ত মন্ত্রকের অধীন জমি ও উন্নয়ন দফতর (এল অ্যান্ড ডিও)। বলা হয়েছে, দেশের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত পরিকাঠামো মজবুত এবং সুরক্ষিত করার জন্য এই জমি প্রয়োজন। তাই ৫ জুনের মধ্যে তা খালি করে দিতে হবে।
আরও পড়ুন:
ক্লাবের ইউনিয়ন প্রধান নন্দন নেগি বলেন, ‘‘আমার কাছে ফোনের পর ফোন আসছে। কর্মচারীরা ফোন করছেন। জিজ্ঞেস করছেন, তাঁরা এ বার কোথায় যাবেন? কী করবেন? আমরা খবরটা পাওয়ার পর থেকেই থমকে রয়েছি। এ বার আমাদের পরিবারের কী হবে?’’ ক্লাবের এক কর্মীর কথায়, ‘‘আমাদের মধ্যে অনেকে এই ক্লাবে তিন দশক ধরে কাজ করেছি। কেউ ১৫ বছর ধরে আছি, কেউ ২০ বছরের বেশি, কেউ আবার ৩৫-৪০ বছর ধরে। জানি না কী ভাবে সংসার চালাব।’’ কর্মচারীদের বক্তব্য, ক্লাবকে নোটিস দেওয়া হয়েছে বটে, কিন্তু তাঁদের সঙ্গে কেউ কোনও কথা বলেননি। তাঁদের কেবল জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ৫ জুন থেকে ক্লাব বন্ধ হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জিমখানার কর্মীরা।
সোমবার ক্লাব কর্তৃপক্ষের তরফে কেন্দ্রকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। ক্লাব তুলে দেওয়ার পর উপযুক্ত স্থানে কোনও বিকল্প জমি তাঁদের দেওয়া হবে কি না, কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ কী হবে, সে সব বিষয়ে চিঠিতে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সঙ্গে সামনাসামনি বৈঠকের আর্জিও জানিয়েছেন জিমখানা কর্তৃপক্ষ।
কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছিল, ২, সফদরজঙ রোডের ওই জমি আদতে ইজারা দেওয়া হয়েছিল ইম্পেরিয়াল দিল্লি জিমখানা ক্লাব লিমিটেডকে। এখন তা হয়েছে দিল্লি জিমখানা ক্লাব। সামাজিক মেলামেশা, খেলাধুলার জন্যই সেই জমি দেওয়া হয়েছিল। এখন জনস্বার্থ এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পের কারণে সেই জমির প্রয়োজন হয়েছে। ইজারার চুক্তির চার নম্বর ধারা অনুসারে এখন ভারতের রাষ্ট্রপতি জমি এবং উন্নয়ন দফতরের মাধ্যমে সেই চুক্তিতে ইতি টানছেন। ২৭.৩ একর জমিতে যে ভবন, পরিকাঠামো, বাগান রয়েছে, তার সবেরই আইনি মালিকানা এ বার দফতরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পিত হবে। আগামী ৫ জুন সেই মালিকানা গ্রহণ করবে জমি এবং উন্নয়ন দফতর। ওই দিন শান্তিপূর্ণ ভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে মালিকানা হস্তান্তর করতে বলা হয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে। অন্যথায় আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।