ভোপালে মৃত ত্বিশা শর্মার মামলায় সব পক্ষকেই প্রকাশ্য মন্তব্যে রাশ টানার পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ত্বিশার পরিবার এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে সংবাদমাধ্যমে মুখ না-খোলার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। সংবাদমাধ্যমগুলিকেও এ বিষয়ে সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ত্বিশার শাশুড়ি প্রাক্তন বিচারক বলে এই মামলায় বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তা নিয়ে ‘ব্যথিত’ সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন বিচারপতিরা।
গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্স এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় প্রাক্তন মডেল-অভিনেত্রী ত্বিশার দেহ। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, পণের দাবিতে ত্বিশার উপর শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার করা হত। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তাঁর স্বামী তথা আইনজীবী সমর্থ সিংহকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ত্বিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিংহ অবসরপ্রাপ্ত বিচারক। তাঁদের পাল্টা দাবি, ত্বিশা মাদকাসক্ত ছিলেন। অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন। এই সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশ সরকার আগেই মামলার তদন্তভার তুলে দিয়েছে সিবিআই-এর হাতে। ত্বিশার পরিবার এবং মধ্যপ্রদেশ সরকারের তরফে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে গিরিবালার আগাম জামিন খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ত্বিশার মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছিল। সোমবার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ মামলাটি শোনে। বলা হয়, এই ঘটনায় স্বচ্ছ, স্বাধীন, নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘‘এই মামলায় কিছু কিছু পদক্ষেপে আমরা ব্যথিত। সংবাদমাধ্যমের কাছে আমরা অনুরোধ করছি, দুই পরিবারের কারও বক্তব্য এখন সম্প্রচার করবেন না। মামলাটি আইনের নিয়ম মেনে চলতে দিন। পরিবারের সদস্যদের কাছেও আমাদের অনুরোধ, সংবাদমাধ্যমের কাছে প্রকাশ্যে নানা রকম মন্তব্য করার পরিবর্তে আপনারা তদন্তকারী সংস্থার কাছে গিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানান। যাতে কোনও পক্ষপাত না হয় বা তদন্তে কোনও প্রভাব না পড়ে।’’
দেশের সাধারণ মানুষের কাছেও ত্বিশার মামলায় যে কোনও ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের মন্তব্য, ‘‘তদন্তকারী সংস্থার উপর বিশ্বাস রাখুন। আমরা নিশ্চিত, যথাসময়ে তদন্ত শেষ হবে।’’ ত্বিশার মামলাটির নিষ্পত্তি করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ইতিমধ্যে সিবিআই-এর একটি দল ভোপালের উদ্দেশে রওনাও দিয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রদেশ সরকারের হয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি জানান, এই মামলা দেশের সকল বাবা-মায়ের কাছে উদাহরণস্বরূপ। এই মামলা দেখিয়ে দিল, মৃত কন্যার চেয়ে বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা থাকা শ্রেয়।