বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কাতারে হাজির হয়ে গেলেন বিতর্কিত ইসলামি ধর্মগুরু জ়াকির নায়েক। সেখানে একটি ধর্ম সংক্রান্ত বক্তৃতাও করার কথা রয়েছে ইডি ও এনআইএর খাতায় ‘ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা জ়াকির। বিপুল পরিমাণ আর্থিক তছরুপ এবং ঘৃণা ভাষণের অভিযোগে অভিযুক্ত তিনি।
কাতারের সরকারি খেলার চ্যানেলের একজন উপস্থাপক এই মর্মে একটি টুইট করেছেন। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘ধর্মগুরু জ়াকির নায়ের কাতারে পৌঁছে গিয়েছেন। বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন তিনি একাধিক সভায় ধর্ম নিয়ে বক্তৃতা করবেন।’
الداعيه الشيخ ذاكر نايك يتواجد في قطر خلال فترة كأس العالم وسيقدم العديد من المحاضرات الدينية طوال المونديال 👏🏻#ذاكر_نايك pic.twitter.com/Tz9gnU6c4N
— فيصل الهاجري (@Faisal_Alhajri0) November 19, 2022
আরও পড়ুন:
১৯৯০ নাগাদ প্রথম পাদপ্রদীপের তলায় আসেন জ়াকির। ২০০০ সাল নাগাদ তাঁর মুম্বইস্থিত ‘ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন’ (আইআরএফ) এর মাধ্যমে তাঁর ভাষণ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ভক্তের সংখ্যা বাড়ে লক্ষণীয় ভাবে। ধর্ম সংক্রান্ত বিভিন্ন বক্তৃতায় অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ উঠতে থাকে তাঁ বিরুদ্ধে। ২০১৬-য় জ়াকিরের সংগঠন আইআরএফকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ভারত। জ়াকিরের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যেই দেশ ছাড়েন তিনি। ২০১৭ থেকেই মালয়েশিয়ায় রয়েছেন তিনি। আর্থিক তছরুপের মামলায় ভারত তাঁকে পলাতক ঘোষণা করে।
এর পর মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন জ়াকির। কিন্তু ২০২০-তে জাতীয় সুরক্ষা ও নিরপত্তার কারণে জ়াকিরের বক্তৃতা নিষিদ্ধ করে মালয়েশিয়াও। ২০১৬-এর জুলাইয়ে জ়াকিরের পাসপোর্ট বাতিল ঘোষণা করে ভারত। সেই সময় জ়াকির দাবি করেছিলেন, তিনি অনাবাসী ভারতীয়।
মূলত অন্য ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি অনুগামীদের চরমপন্থা অবলম্বনে সহায়ক হত জ়াকিরের ভাষণ। সেই জ়াকিরই বিশ্বকাপ শুরুর আগে পৌঁছে গেলেন কাতার।