তিনটি ঘটনা।
এক, ঘুরে ফিরে সেই রাম-নাম নরেন্দ্র মোদীর মুখে। অযোধ্যার কাছে এক সভায় আজ দফায় দফায় রামের নাম উল্লেখ করলেন তিনি। আর সেই মঞ্চের পিছনে তখন রাম ও রামমন্দিরের ছবি।
দুই, মোদীর সেনাপতি অমিত শাহ আজ উত্তরপ্রদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বললেন, আজমগড় ‘সন্ত্রাসবাদীদের গড়’।
তিন, আবার গতকালই পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে শরণার্থীদের রেখে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হটানোর কথা বলেছেন মোদী।
গোটা নির্বাচনী প্রচারে হিন্দুত্বকে সরিয়ে রেখে শুধুই উন্নয়নের কথা বলে এসেছেন মোদী। ‘গোলাপি বিপ্লবে’র কথা বললেও মোদী ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এর সঙ্গে হিন্দুত্বের দূর-দূরান্তে সম্পর্ক নেই। বরং এটি আগাগোড়া একটি আর্থিক বিষয়। কিন্তু ধারাবাহিক এই তিনটি ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, শেষ দু’দফার ভোটের আগে কি ফের হিন্দুত্বে সওয়ার হচ্ছেন তিনি?
গতকাল পশ্চিমবঙ্গে মোদীর মন্তব্যের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে বিমান বসু একযোগে অভিযোগ করেছেন, বিভাজনের রাজনীতি করছেন মোদী। আজ উত্তরপ্রদেশে মোদী ও অমিত শাহের মন্তব্যের পর কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টির মতো দলের নেতারাও একই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছেন। একদিকে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব বলেছেন, “দেশে বিভাজনের রাজনীতি করাই মোদীর মূল লক্ষ্য।” দিল্লিতেও কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির অভিযোগ, “মেরুকরণই বরাবর মোদীর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। মোড়কটি ছিল উন্নয়নের। সে কারণেই পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে বলেন, যাঁরা দুর্গাঅষ্টমী করেন, তাঁরা থাকবেন। বাকিরা বাংলাদেশে ফেরত যাবেন।” সিঙ্ঘভির কথায়,“অমিত শাহ একটি গোটা সম্প্রদায়কেই সন্ত্রাসবাদী বলেছেন। আর মোদী অযোধ্যার কাছে গিয়ে রামের ছবি নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির চরম নুমনা পেশ করেছেন।”
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনে মোদী ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক প্রচারের অভিযোগ করেছে। কিন্তু মোদীর পক্ষে সওয়াল করে আসরে নেমে পড়েছেন তাঁর সেনাপতিরা। বিজেপি নেতা অরুণ জেটলির মতে, মোদী বা অমিত শাহ আদৌ মেরুকরণের রাজনীতি করেননি। অমিত শাহ যা বলেছেন, তা সকলেই জানেন। আজমগড় যে আসলে সন্ত্রাসবাদীদের গড় এবং কংগ্রেস নেতারা সেখানে সন্ত্রাসবাদীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন, তা-ও সকলের সমক্ষে। অমিত শাহ কখনওই সেই এলাকার সব মানুষকে সন্ত্রাসবাদী বলেননি। আর বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসমে যেসব অনুপ্রবেশকারী আসেন, তাঁদের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ব্যবহার করে এসেছে। তাঁদের উচিত নিজে থেকেই এ দেশে ছেড়ে চলে যাওয়া। যশবন্ত সিন্হার মতে, “অযোধ্যার কাছে গিয়ে রামরাজ্যের কথা বলেও মোদী কোনও ভুল করেননি। সাধারণত, সমৃদ্ধিশালী দেশ বা রাজ্যের সঙ্গে রামরাজ্যের তুলনা করা হয়।”
কিন্তু বিজেপি নেতৃত্ব মুখে এই ব্যাখ্যা দিলেও ঘরোয়া স্তরে কবুল করছেন, হতে পারে সামগ্রিক ভাবে হিন্দুত্বের রাজনীতিতে সওয়ার হতে চান না মোদী। কিন্তু কিছু কিছু এলাকায় মেরুকরণের পরিস্থিতি এমনিতেই তৈরি হয়ে রয়েছে। সেখানে বিজেপিও কৌশলগতভাবে তার সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে। মোদী উন্নয়নের এজেন্ডা থেকে সরে আসেননি। হিন্দুত্বকেও উচ্চগ্রামে নিয়ে যাননি। বরং সুকৌশলে রামকে ব্যবহার করে উন্নয়নের এজেন্ডাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রেখেছেন।