পোষ্য রটওয়াইলার সারমেয় ‘হেনরি’-র যৌথ অভিভাবকত্ব চেয়ে কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রাক্তন বন্ধু আইনজীবী জয় অনন্ত দেহাদ্রাইয়ের বক্তব্য জানতে চাইল দিল্লি হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মনোজ কুমার ওহরি আইনজীবী দেহাদ্রাইকে নোটিস জারি করে তাঁর জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে এপ্রিল মাসে।
মহুয়া হাই কোর্টে জেলা আদালতের একটি অন্তর্বর্তী আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। গত বছরের ১০ নভেম্বর জেলা আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে জানায়, প্রতি মাসে ১০ দিনের জন্য সারমেয়টির যৌথ হেফাজত পাওয়ার দাবিতে তিনি প্রাথমিক ভাবে গ্রহণযোগ্য কোনও মামলার ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। পর্যবেক্ষণে আদালত আরও জানায়, আইনের দৃষ্টিতে ‘কুকুরের অভিভাবক’ বলে কোনও ধারণা নেই, এবং আবেগজনিত যুক্তি দিয়ে হেফাজতের দাবি প্রতিষ্ঠা করা যায় না। হাই কোর্টে দায়ের করা আপিলে তৃণমূল সাংসদ দাবি করেছেন, ‘হেনরি’ তাঁকেই উপহার দেওয়া হয়েছিল এবং সারমেয়টি মূলত তাঁর বাড়িতেই থাকত। তিনি অভিযোগ করেন, দেহাদ্রাই তাঁর বাসভবনে অনধিকার প্রবেশ করে কুকুরটিকে নিয়ে যান। আবেদনে বলা হয়েছে, তিনি দু’বছর ধরে ‘হেনরি’-কে লালন-পালন করেছেন এবং সেই সূত্রে গভীর মানসিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাই নিজেকে তিনি পোষ্যটির ‘সহ-অভিভাবক’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মহুয়ার বক্তব্য, জেলা আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার সময় এই বিষয়টি যথাযথ ভাবে বিবেচনা করেনি যে সারমেয়টি অধিকাংশ সময় তাঁর সঙ্গেই থাকত। ফলে ওই আদেশ তাঁকে নিজের লালিত পোষ্যের স্নেহ-ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে। তিনি আদালতের কাছে অনুরোধ করেছেন, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তিকালীন আদেশ হিসাবে প্রতি মাসে ১০ দিনের জন্য ‘হেনরি’-র হেফাজত দেওয়া হোক।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, দেহাদ্রাই আদালতে বলেছেন, এই সময় মহুয়ার আবেদন খারিজ করা উচিত। তাঁর দাবি, যৌথ হেফাজত সংক্রান্ত কোনও মৌখিক চুক্তির প্রমাণ নেই। জেলা আদালতও তার আদেশে জানিয়েছিল, দু’পক্ষের মধ্যে কুকুরটির যৌথ হেফাজত নিয়ে কোনও সমঝোতা বা কথোপকথনের প্রমাণ আদালতে পেশ করা হয়নি। উল্লেখ্য, জেলা আদালতে মহুয়া একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করে দাবি করেছিলেন, তাঁর ও দেহাদ্রাইয়ের মধ্যে সারমেয়টির যৌথ হেফাজত নিয়ে মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তির নির্দিষ্ট বাস্তবায়ন চেয়েছিলেন তিনি। তবে আদালত অন্তর্বর্তী পর্যায়ে তাঁর পক্ষে কোনও আদেশ দেয়নি।