Advertisement
E-Paper

প্রতীক-উরকে নিয়ে তেমন কথাই উঠল না সিপিএম রাজ্য কমিটির বৈঠকে! সেলিম বিরোধিতার সুর আরও চড়িয়ে কোন পথে রহমান?

সিপিএম সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের একটি জেলার নেতৃত্ব বৈঠকে বলেন, প্রকাশ্যে প্রতীক-উর যা বলতে শুরু করেছেন, তা নিয়ে পার্টির ভাবনাচিন্তা করা উচিত। আবার কেউ বলেছেন, প্রতীক যা বলছেন বলুন, তাতে পার্টির গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:০৯
প্রতীক-উর রহমান।

প্রতীক-উর রহমান। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তরুণ সিপিএম নেতা প্রতীক-উর রহমান বুধবারের পর বৃহস্পতিবার দলীয় নেতৃত্বের একাংশ এবং রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের উদ্দেশে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছেন। সেই পরিস্থিতিতেও প্রতীককে নিয়ে তেমন কোনও উচ্চবাচ্যই হল না সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে সিপিএমের দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক। আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, দু’একটি জেলার নেতৃত্ব ছাড়া তেমন কেউই প্রতীকের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি।

সিপিএম সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের একটি জেলার নেতৃত্ব বৈঠকে বলেন, প্রকাশ্যে প্রতীক-উর যা বলতে শুরু করেছেন, তা নিয়ে পার্টির ভাবনাচিন্তা করা উচিত। আবার কেউ বলেছেন, প্রতীক যা বলছেন বলুন, তাতে পার্টির গুরুত্ব না দেওয়াই উচিত। তবে সিপিএমের অনেকের বক্তব্য, বৈঠকের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ শুক্রবার, প্রতীকের প্রসঙ্গ আলোচনায় উঠলেও উঠতে পারে। শাস্তিমূলক কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব রয়েছে দলের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীতে। একাংশ মনে করে, দলের নেতা হিসেবে প্রতীক যে ভাবে রাজ্য সম্পাদককে নিশানা করছেন তাতে দল শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিক। যদিও সিপিএমের বড় অংশ মনে করে, প্রতীকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করলে তিনি ‘শহিদ’-এর মর্যাদা পেয়ে যাবেন। তাঁকে নিজের রাস্তা নিজেকেই বেছে নিতে দেওয়া উচিত। তাতে দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও বার্তা পৌঁছোবে।

তরুণ নেতা প্রতীককে নিয়ে আলোচনা না হলেও সিপিএমের রাজ্য কমিটিতে অন্য এক প্রতীক নিয়ে আলোচনা হল। তা হল, দলের নির্বাচনী প্রতীক কাস্তে-হাতুড়ি-তারা। কংগ্রেস একলা চলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর সিপিএম এবং বাম শরিক দলগুলি এবং নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফের সঙ্গে জোট করে লড়বে। ফলে অনেক বছর বাদে রাজ্যের প্রায় কমবেশি ২০০ আসনে সিপিএম নিজের প্রতীকে প্রার্থী দিতে চলেছে। তবে এও প্রণিধানযোগ্য, সিপিএমের ভোট যে পর্যায়ে নেমে গিয়েছে তাতে কত আসনে জামানত রক্ষা করা যাবে, তা নিয়েও সন্দিহান অনেকে।

সূত্রের খবর, রাজ্য কমিটির বৈঠকেই সিপিএমের একাধিক নেতা দলে রিপোর্ট জানাতে গিয়ে বলেছেন, রাজ্য বাজেটে যে ভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডারের অর্থ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যে ভাবে বেকার ভাতা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়ে গিয়েছে, তাতে সিপিএমের জন্য পরিস্থিতি আরও বিড়ম্বনার জায়গায় পৌঁছেছে।

আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক-উরের প্রসঙ্গ না উঠলেও রাজ্য কমিটির সদস্যেরা নিজেদের মধ্যে তরুণ নেতাকে নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৃহস্পতিবার প্রতীক-উর সেলিমকে গব্বর সিংহ বলে আক্রমণ করেছেন। তিনি তৃণমূলে যাবেন কি না, এই প্রশ্নে বৃহস্পতিবারও নীরব থাকায় তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা আরও জল-বাতাস পেয়েছে। বুধবার আনন্দবাজার ডট কমকেই প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন প্রতীক-উর। সেখানে তিনি বলেছিলেন, তিনি পার্টি করতে গিয়ে খুন হয়ে যেতে বসেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে বৃহস্পতিবার সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ জানিয়েছেন, কারা প্রতীক-উরকে খুন করতে এসেছিল সে কথা যেন তিনি মাথায় রাখেন। তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতীক-উর কিছু না বললেও তৃণমূলের বিভিন্ন নেতার ফেসবুক পোস্ট এবং পরিপার্শ্ব দেখে অনেকেই নানাবিধ আন্দাজ করতে শুরু করেছেন।

CPIM Left Front
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy