বরাকের কাছাড় কাগজ কলে অচলাবস্থা চলছেই। দু’মাসের বেশি সময় মিলে উৎপাদন বন্ধ। এতে বিপাকে পড়েছেন কাগজকলের সঙ্গে জড়িত শ্রমিক, ছোট ব্যবসায়ী, দিনমজুররা। কাগজ কল সূত্রে খবর, সেখানে উৎপাদন শুরুর জন্য সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লা আমদানি করা হয়েছে। ৩০ অগস্ট মালবাহী ট্রেনে ৫১টি বগি ভর্তি কয়লা পাঁচগ্রামে পৌঁছেছে। পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া থেকে মালবাহী ট্রেনে কয়লা পাঁচগ্রামে এসেছে। কয়লা সবরাহকারী সংস্থা ‘হিন্দুস্তান এগ্রোটেক’ প্রথম দফায় ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এসেছে। দু’মাস আগেও মালবাহী ট্রেনে কয়লা পাঁচগ্রামে আনা হয়। আরও একটি কয়লা-বোঝাই ট্রেন পাঁচগ্রামের দিকে রওনা দিয়েছে।
কয়লার অভাবের জন্য এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই কাগজ কলে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। সেখানকার এক আধিকারিক জানান, মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শ্রমিক সংগঠনগুলি এ জন্য কাগজ কলের কর্তৃপক্ষকেই দায়ী করছেন। সঙ্কট কাটাতে ‘ইস্টার্ন কোল ইন্ডিয়া’ থেকে কয়লা কেনার দাবি জানিয়েছিলেন সংগঠনের নেতারা। কিন্তু কাগজ কল কর্তৃপক্ষ তা মানেননি বলে অভিযোগ। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরেও স্মারকপত্র পাঠানো হয়েছে। হাইলাকান্দির জেলাশাসক বরুণ ভুঁইঞাও একাধিক বার কাগজ কল কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান-সূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘দ্রুত ওই কাগজ কলে উৎপাদন শুরু হবে।’’ তবে এ নিয়ে শঙ্কায় সাধারণ মানুষ। কাগজ কলে উৎপাদন নিয়মিত করার দাবিতে ইতিমধ্যেই কয়েকটি সংস্থা অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে। কৃষক মুক্তি সংগ্রাম সমিতির নেতা জহিরুদ্দিনের মন্তব্য— ‘‘কাগজ কল কর্তৃপক্ষ মেঘালয়ের বদলে অন্য জায়গা থেকে কয়লা এনে উৎপাদন শুরু করার চেষ্টা করছেন না। তাঁদের এই ভুমিকা রহস্যজনক।’’ সাংসদ রাধেশ্যাম বিশ্বাস এ নিয়ে বলেন, ‘‘কাগজ কল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কয়লার সমস্যা মিটলেই উৎপাদন স্বাভাবিক হবে।’’ পাঁচগ্রামের শ্রমিক নেতা মানবেন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘‘শ্রমিকরা সেখানে উৎপাদন শুরু করতে চান। কর্তৃপক্ষকে এ নিয়ে পদক্ষেপ করতে হবে।’’
পাঁচগ্রাম কাগজ কল কর্তৃপক্ষ মেঘালয় থেকে কয়লা আমদানি করতেন। ‘ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল’-এর নির্দেশের জেরে মেঘালয়ে খাদান থেকে কয়লা তোলা বন্ধ হয়। তাতেই বিপত্তি। কাগজ কলের জন্য পরপর কয়লা বোঝাই মালগাড়ি পাঁচগ্রামে পৌঁছনোয় আশার আলো ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ওই কলে দিনমজুরের কাজ করছেন রহিমউদ্দিন। দু’মাস তিনি বেকার। আর্তিক সঙ্কটের মুখে পড়েছে তাঁর পরিবারও। তাঁর মন্তব্য, ‘‘প্রতিদিন সকালে উঠেই কাগজ কলের চিমনির দিকে তাকিয়ে থাকি। যদি ধোঁয়া দেখা যায়। তবেই তো মিলবে কাজ।’’