গত মাসেই বিধানসভায় পাশ হয়েছে ডাইনি হত্যা ও ডাইনি অপবাদে অত্যাচার রুখতে আইন। বলা হচ্ছে তা দেশের মধ্যে সব চেয়ে কড়া। কিন্তু তাতে ডাইনি অপবাদে অত্যাচার রোখা যাচ্ছে না।
এ বার বড়ো বা আদিবাসী এলাকা নয়, একেবারে মহানগর গুয়াহাটিতেই ডাইনি অপবাদে এক নাবালক ও তার মাকে আক্রমণ করল পড়শিরা। বামুনিমৈদামের ঘটনা।
পুলিশ জানায়, রেল কলোনির কাছে শীলতাবাড়ির বাসিন্দা মীরা দাসের ছেলে মনোজ দাস কয়েক দিন থেকে মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। মীরাদেবী জানান, চিকিৎসায় কাজ না হওয়ায় তিনি ছেলেকে নিয়ে মায়াং-এ ওঝার কাছে যান। সেখান থেকে ফেরার পরও সমস্যা কাটেনি। সে যখন-তখন ঘর থেকে বের হয়ে যেত। নিজের মাথায় আঘাত করে জিনিস ভাঙত। তার জেরেই পাড়ার মানুষ তাঁকে ডাইনি সন্দেহে আক্রমণ করে। তাঁদের বাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গোটা রাত মাঠে কাটিয়ে তাঁরা থানায় যান।
পড়শিদের একাংশের অভিযোগ, জাদুবিদ্যার জন্য বিখ্যাত মায়াং-এ জাদু শিখে আসার পর ওই পরিবার ঝগড়া হলেই প্রতিবেশীদের সর্বনাশ করার ভয় দেখাত। রেলের জমি জবরদখল করে থাকা পরিবারটির সঙ্গে অনেকেরই ঝগড়া ছিল। তারই ফলশ্রুতি এই ঘটনা। এ নিয়ে আগামী কাল এলাকায় আলোচনার আয়োজন করেছে পুলিশ ও ডাইনি হত্যা রোধ নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
লখিমপুরেও এক বৃদ্ধকে ডাইনি অপবাদে খুনের পরিকল্পনা করছিল একাংশ গ্রামবাসী। তাঁকেও উদ্ধার করেন ওই সংগঠনের সদস্যরা। সংগঠনের সভাপতি দিব্যজ্যোতি শইকিয়া জানান, পানিগাঁওয়ের নাঢলা গ্রামের বাসিন্দা ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধ দন্ড পেগুর বিরুদ্ধে সালিশি সভা বসানো হয়েছিল। তাঁকে ডাইনি অপবাদে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাতে তাঁকে মারধর করে বেঁধে রাখা হয়েছিল। কিন্তু, খুন করার আগেই স্বেচ্ছাসেবীরা পুলিশ নিয়ে সেখানে হাজির হয়ে পেগুকে উদ্ধার করেন।