Advertisement
E-Paper

তেলে-জলে পিছল পথ মোদীর সামনে

তেলে-জলে মিশ খায় না। কিন্তু প্রথম বর্ষপূর্তির মুখে এই তেলে ও জলে মিলেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। এক দিকে অশোধিত তেলের দামের বৃদ্ধি। অন্য দিকে অকাল বৃষ্টি। দুইয়ের জেরে অর্থনীতির আকাশে ফের মেঘ জমবে কি না, তা নিয়ে ভাঁজ পড়েছে মন্ত্রীদের কপালে।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২১ মে ২০১৫ ০৩:৪৬

তেলে-জলে মিশ খায় না। কিন্তু প্রথম বর্ষপূর্তির মুখে এই তেলে ও জলে মিলেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

এক দিকে অশোধিত তেলের দামের বৃদ্ধি। অন্য দিকে অকাল বৃষ্টি। দুইয়ের জেরে অর্থনীতির আকাশে ফের মেঘ জমবে কি না, তা নিয়ে ভাঁজ পড়েছে মন্ত্রীদের কপালে। চিন্তার প্রাথমিক কারণ, ফের মূল্যবৃদ্ধির হার লাগামছাড়া হতে পারে। সার্বিক ভাবেও অর্থনীতিতে আঘাত আসতে পারে। সরকারি সূত্রের খবর, এখনও আতঙ্ক ছড়ায়নি ঠিকই, কিন্তু পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে কী ভাবে সামাল দেওয়া যাবে, তা নিয়ে এর মধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন মন্ত্রীরা।

মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বিদেশ থেকে আমদানি করা অশোধিত তেলের দাম পড়তে শুরু করেছিল। তাতে হয়তো সরকারের কোনও কৃতিত্ব ছিল না। চিন তথা এশিয়ার বাজারে চাহিদা কমে গেলেও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলি জোগান কমায়নি। ফলে গত বছরের জুন থেকে এ বছরের জানুয়ারির মধ্যে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০৯ ডলার থেকে ৪৬ ডলারে নেমে আসে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়েছিল। আমদানি-রফতানি ও বিদেশি মুদ্রার আয়-ব্যয়ের ঘাটতিতে লাগাম পরানোও সহজ হয়েছিল।

কিন্তু এর পর শুরু উলটপুরাণ। সব চেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সৌদি আরব। তাদের নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইরাক-ইয়েমেনের অশান্তির ফলে জানুয়ারির পর থেকে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৪০% দাম। বেড়েছে এর জেরে দু’দফায় পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়েছে। ডিজেলের দাম বাড়ায় বাড়তে পারে মূল্যবৃদ্ধির হারও।

এমনিতেই অকালবর্ষণ নিয়ে চিন্তায় ছিল কৃষি মন্ত্রক। এই মন্ত্রকের কর্তাদের বক্তব্য, প্রথমে অনাবৃষ্টি, তার পরেই অকালবর্ষণের ফলে পরপর দুই মরসুমে যে পরিমাণ ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত মোদী সরকার বাজারে দাম বাড়লেই ঠিক সময়ে মজুত খাদ্যশস্য জোগান দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে এসেছে। কিন্তু গত মার্চ-এপ্রিলের অকালবর্ষণ গোটা ভারতেই ছাপ ফেলেছে। উত্তর বা উত্তর-পূর্ব ভারতে এই দুই মাসে স্বাভাবিকের থেকে ৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মধ্য ভারত বা উত্তর-পশ্চিম ভারতে অতিরিক্ত বৃষ্টির পরিমাণ কোথাও ১৫০ শতাংশ, কোথাও ২০০ শতাংশর বেশি।

বণিকসভা অ্যাসোচ্যামের সেক্রেটারি জেনারেল ডি এস রাওয়াতের বক্তব্য, ‘‘সাধারণ মানুষ থেকে শিল্পমহল, সরকার ও রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, সকলের জন্যই এখন সাবধান হওয়ার সময়। অশোধিত তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডলারের তুলনায় টাকার দাম কমে আসার ফলে আমদানির খরচ বাড়ছে। এই অবস্থায় অকালবর্ষণের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য কেন্দ্রের পরিকল্পনা থাকা দরকার।’’

অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা বলছেন, সমস্যা শুধু দাম বাড়ার মধ্যেই আটকে থাকবে না। ফসল নষ্ট হওয়ার ফলে কৃষকদের আয় কমেছে। ঋণ মেটাতে নাভিশ্বাস উঠছে তাঁদের। ফলে গ্রামীণ এলাকায় কেনাকাটা কমছে। একই ভাবে অশোধিত তেলের দাম বাড়লে সরকারের ভর্তুকি বাড়বে। ফলে রাজকোষ ঘাটতির উপরে চাপ বাড়বে।

সরকারের সাফল্য নিয়ে জোরদার প্রচার চাইছেন মোদী। কিন্তু বর্ষপূর্তির মুখে এখন ঘরে-বাইরে অসন্তোষ। মোদীকে চাষি-বিরোধী তকমা দিয়ে প্রচারে নেমেছে বিরোধীরা। সংসদে আটকাচ্ছে একের পর এক বিল। সরকারের জমি নীতি নিয়ে তো বিজেপি ও সঙ্ঘ পরিবারের একাংশই ক্ষুব্ধ। সঙ্ঘ-প্রধানই বিজেপি নেতাদের বলছেন অসন্তোষ সামলান।

এর উপরে শাকের আঁটি তেলে-জলের জুটি!

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy