পকসো মামলার ভয়। পুলিশি হেফাজতের চাবি গিলে খেয়ে ফেলল অভিযুক্ত! বার করতে তিন দিনে তাঁকে ১০ কেজি কলা খাওয়াল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুতে। বেঙ্গালুরুর নেলামঙ্গলা এলাকায় এক নিখোঁজ মামলায় তদন্ত চলাকালীন অস্বাভাবিক ঘটনাটি ঘটেছে। পুলিশ স্টেশনে জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক যুবক পুলিশের লক-আপের চাবি গিলে ফেলে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পুলিশ কর্মকর্তা এবং চিকিৎসাকর্মীদের হতবাক করে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার তদন্ত চলাকালীন রবিবার মাদানায়কানাহাল্লি পুলিশ স্টেশনে ঘটনাটি ঘটে। ওই মামলায় রামু নামে এক যুবককে আটক করেছিল পুলিশ। নিখোঁজ কিশোরীর মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে শনাক্ত করা হয় রামুকে। এর পরেই আটক করা হয় তাঁকে। চলছিল জিজ্ঞাসাবাদ।
জানা গিয়েছে, রামুকে পুলিশ স্টেশনে আনার পর পকসো আইনের অধীনে মামলা হতে পারে জেনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভয়ে লক-আপের চাবি গিলে ফেলেন তিনি, যা কর্মকর্তাদের মতে আত্মহত্যার একটি প্রচেষ্টা ছিল। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জরুরি চিকিৎসার জন্য তাঁকে অবিলম্বে নিকটবর্তী একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
আরও পড়ুন:
যুবকটির পেটের ভিতর থেকে ধাতব বস্তুটি বার করার জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে কি না তা নির্ধারণ করতে তাঁকে প্রথমে পরীক্ষা করেন বেসরকারি ওই হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। তবে, চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে চাবিটি নিরাপদে বার করে আনার জন্য একটি অন্য পদ্ধতি বেছে নেন। ঘটনাটির সঙ্গে ওয়াকিবহাল এক সূত্র জানিয়েছে, রামুকে পর্যবেক্ষণে রেখেছিলেন চিকিৎসকেরা এবং বস্তুটি যাতে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় মলের মাধ্যমে তাঁর শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারে সে জন্য তাঁকে তিন দিন ধরে প্রায় ১০ কেজি কলা খাওয়ানো হয়েছিল। কোনও অভ্যন্তরীণ জটিলতা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই তা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোজ যুবকের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করেন। তিন দিন কলা খাওয়ানোর পর গিলে ফেলা চাবিটি স্বাভাবিক উপায়ে শরীর থেকে বেরিয়ে এলে পদ্ধতিটি সফল বলে প্রমাণিত হয়।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, চাবিটি উদ্ধারের পর যুবককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মঙ্গলবার তাঁকে আবার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল থেকে ফেরার পর আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্য দিকে, ১৭ বছর বয়সি কিশোরীর নিখোঁজ হওয়া নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।