গত পনেরো বছরে শুধু দশম জলপ্রপাতে ডুবেই মারা গিয়েছেন শতাধিক পর্যটক। এছাড়া হুড্র ও জোনাতেও ঘটেছে দুর্ঘটনা। শীতের শুরু হতে না হতেই জলপ্রপাতগুলিতে শুরু হয়ে যায় পর্যটকদের ভিড়। এ বছরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বহু পর্যটক ভিড় করছেন জলপ্রপাতগুলিতে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, এ বার পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঝাড়খণ্ড পর্যটন দফতর কতটা সচেতন?
পর্যটন দফতরের দাবি, এ বার স্থানীয়দের নিয়ে দফতরের উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিশেষ বাহিনী ‘পর্যটন মিত্র’। এই বাহিনী ফলসের আশপাশে নজর রাখবে। কেউ পড়ে গেলে দ্রুত উদ্ধার করবে তারা। ‘ঝাড়খণ্ড ট্যুরিজম ডেভলপমেন্ট কর্পোরেশন’-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুনীল কুমার বলেন, ‘‘আমরা পর্যটকদের সাবধানতা অবলম্বন করতে অনুরোধ করছি। তবে দুর্ঘটনা রুখতে শুধু দশম নয় হুড্র ও জোনাতেও থাকছে পর্যটন মিত্রের দল। এদের মাসিক ৫০০০ টাকা বেতনে রাখা হয়েছে।’’ তিনি আরও জানিয়েছেন, দশমে সব থেকে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে বলে এখানে পর্যটন মিত্রের সংখ্যা ৩০ জন। হুড্র ও জোনাতে ১৫ জন করে পর্যটন মিত্র নিয়োগ করা হয়েছে। এদের প্রত্যেককেই নির্দিষ্ট পোশাক পরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু জলপ্রপাতগুলি ঘুরে দেখা গেল বাস্তব চেহারাটা খুব একটা পাল্টায়নি। কলকাতা থেকে আসা একদল পর্যটকের অভিযোগ, পর্যটন মিত্রদের নির্দিষ্ট পোশাক না থাকায় কারা ওই বাহিনীর সদস্য— তা বোঝাই যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে অভিযোগ, বিপজ্জনক জলপ্রপাতগুলোতে যেমন সর্তকবার্তা দেওয়া উচিত তাও নেই।
দশম ফলসে একটি স্থানে জল খুব গভীর। বাইরে থেকে দেখলে কিছু বোঝার উপায় নেই। ওই জায়গাটিকে বলা হয় ‘ডেথ ট্র্যাপ’। উৎসাহী পর্যটকরা জলপ্রপাতের খুব কাছে যেতে গিয়ে পা পিছলে ওই ডেথ ট্র্যপে অনেকবার পড়েছেন। কিন্তু দশমের সব থেকে বিপজ্জনক জায়গা ওই স্থানেই নেই কোনও সর্তকবাণী। জলপ্রপাতের কয়েকটি জায়গায় তার দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওই তার টপকে যে কেউ কাছাকাছি চলে যেতে পারেন।
পর্যটন মিত্ররা অবশ্য দাবি করছেন, সবসময়ই পর্যটকদের উপর নজর রাখা হচ্ছে। মঙ্গল মুণ্ডা নামে এক পর্যটন মিত্রের দাবি, ‘‘আমরা নজরদারি ঠিকই রাখি। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমাদের সর্তকবাণী শুনতে চান না পর্যটকরা। আমরা অনেক বার বলেছি, ‘ডেথ ট্র্যাপে’ পড়ে গেলে আমরাও কিছু করতে পারব না।’’
এক বছর আগেও কোনও পর্যটক জলপ্রপাতে পড়ে গেলে তাঁর দেহ উদ্ধারের জন্য স্থানীয়রা রীতিমতো দরদাম শুরু করে দিত। অভিযোগ, পর্যটকদের উদ্ধার করতে স্থানীয় যুবকরা ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চেয়ে বসেছেন। ঝাড়খণ্ড পর্যটন দফতরের সচিব অনির্বাণ কুমারের দাবি, ‘‘এ বছর থেকে স্থানীয়দের নিয়ে তৈরি ‘পর্যটন মিত্র’দের যেহেতু বেতন দিয়ে রাখা হচ্ছে তাই আশা করছি এই সমস্যা আর হবে না।’’
তবে নজরদারি যে বাড়ানো দরকার তা স্বীকার করেছেন পর্যটন দফতরের আধিকারিকরাও। পর্যটন দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘যে সব পর্যটক প্রপাতে ডুবে মারা গিয়েছেন— তাঁদের একটা তালিকা তৈরি করে প্রবেশ পথে ঝোলানোর কথা ভাবা হচ্ছে। যদি তাতে পর্যটকরা কিছুটা সর্তক হন।’’