আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন। ২০২৯-এ দিল্লি দখলের লড়াইয়ের আগে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গেরুয়া শিবিরের কাছে। সেই লক্ষ্যে ঘরে-বাইরে সক্রিয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। সম্প্রতি মোদীর কেন্দ্র বারাণসীতে ভারত থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলিতে পরিযায়ী শ্রমিক পাঠানো সহজের লক্ষ্যে একটি কর্মশালা করল কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রক আজ এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি যৌথ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে যার নাম ‘লিঙ্কিং ইন্ডিয়া ই ইউ মোবিলিটি অপারচুনিটি উইথ উত্তরপ্রদেশ’। তার অধীনেই হওয়া ওই কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরপ্রদেশের শ্রমমন্ত্রী অনিল রাজভর, বিদেশ মন্ত্রক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে হামাসের আক্রমণের পর ইজ়রায়েলের তরফে প্যালেস্টাইনের মানুষদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া বন্ধ করা হয়। ভারতের কাছে বড় সংখ্যায় নির্মাণ কর্মী চায় তেল আভিভ। অন্য দিকে, শুধু ইজ়রায়েল নয়, নয়াদিল্লি চাইছে শ্রমিকদের কিছুটা দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দিয়ে আইনি পথে বিভিন্ন দেশে পাঠাতে। কর্মসংস্থান নিয়ে বিপুল চাপের মুখে রয়েছে কেন্দ্র। তাতে এই প্রকল্পে কিছুটা সুরাহা মিলতে।
বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, দেশের গবেষণা ও উন্নয়নে বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে মোদী সরকার। বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। অভিযোগ, ‘বিকশিত ভারত’-এ লাফিয়ে বেড়েছে বেকারত্ব। ২০১৯ সালে তো খোদ সরকারি রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছিল, দেশে বেকারত্বের হার গত ৪৫ বছরের মধ্যে সর্বাধিক। তারপর পেরিয়েছে আরও দু’টি লোকসভা ভোট। কিন্তু দেশে কর্মসংস্থানের বেহাল দশা কাটেনি। তাই শ্রমিকদের বিদেশে পাঠিয়ে উত্তরপ্রদেশের ভোটব্যাঙ্কের মন জয়ে চেষ্টা হচ্ছে বলে মনে করছে বিরোধী দলগুলি। নিজস্ব সংবাদদাতা
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)