তামাকজাত পণ্য নাবালকদের বিক্রির ক্ষেত্রে দেশ জুড়ে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল আগেই। কিন্তু তাতে খুব লাভ হয়নি। এ বার তাই আরও কড়া পদক্ষেপ করল শিশু ও নারীকল্যাণ মন্ত্রক। যে কোনও ধরনের নেশার দ্রব্য নাবালকদের সরবরাহ করলে এত কাল জরিমানা ছিল মাত্র ২০০ টাকা। আইন সংশোধন করে কেন্দ্রীয় সরকার জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা করল। পাশাপাশি, সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে আইনে। গত ১৫ জানুয়ারি ওই নয়া আইন কার্যকর হয়েছে।
মুম্বইয়ের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ এবং ভয়েস অব টোব্যাকো ভিকটিমস-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পঙ্কজ চতুর্বেদী জানান, সিগারেট ও অন্য তামাকজাত পণ্য সম্পর্কিত ২০০৩ সালের আইনটি নাবালকদের নেশার দ্রব্য বিক্রি আটকাতে ব্যর্থ হয়েছিল। অন্যতম কারণ ছিল, মাত্র ২০০ টাকা জরিমানার ভয় দমাতে পারেনি অসাধু ব্যবসায়ীদের।
বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, প্রায় সাড়ে ২৭ কোটি ভারতবাসী তামাকের নেশায় আসক্ত। এদের বেশির ভাগই নাবালক অবস্থা থেকেই নেশার শিকার। পঙ্কজবাবু বলেন, এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে তামাকজাত দ্রব্যের নেশা শুরুর গড় বয়স ১৭ বছর। এ দেশের শতকরা কুড়ি ভাগ নাবালক তামাকের নেশার শিকার।
নয়া আইনও কতটা সাফল্য আনবে, তা নিয়ে চিকিৎসকদের একাংশের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, তামাকজাত পণ্য তৈরি নিষিদ্ধ না হলে এই ব্যাপারে সাফল্য পাওয়া কঠিন। কারণ, স্বাভাবিক ভাবেই উৎপাদনকারী সংস্থা চাইবে, আরও বেশি সংখ্যক মানুষ নেশায় আসক্ত হোক।
তবে আইনের এই সংশোধনকে দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের জয় হিসেবেই দেখছেন ভয়েস অফ টোব্যাকো ভিকটিমস-এর দুই সদস্য ক্যানসার বিশেষজ্ঞ গৌতম মুখোপাধ্যায় এবং সোমনাথ সরকার। তাঁরা জানান, শিশুদের মধ্যে সংক্রামক ব্যাধির মতো বাড়ছে তামাকের নেশা। তাই দীর্ঘ দিন ধরে তাঁরা আইনটি কঠোর করার দাবি জানাচ্ছিলেন।
রাজ্যের নারী শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘‘আইন সংশোধনের বিষয়টি জানি। রাজ্য সরকার এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’’