প্রধানমন্ত্রীর ঝটিকা সফরের পরে, মোদী ঝড়ের পালের হাওয়া কাড়তে উঠেপড়ে লেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। চলছে একের পর এক প্রকল্প ঘোষণা। প্রতিটি সভায় নরেন্দ্র মোদী ও সর্বানন্দ সোনোয়ালের সমালোচনা করে তাঁদের অসমপ্রেমকে মুখোশ বলে দাবি করছেন গগৈ।
আজ নগাঁও জেলার মোহঘুলিতে নগাঁও মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী রকিবুল হুসেন। গগৈ বলেন, ‘‘আমরা ক্ষমতায় আসার পরে রাজ্যে আরও তিনটি মেডিক্যাল কলেজ করেছি। চিকিৎসা ব্যবস্থা ও ডাক্তারি পড়াশোনার সুযোগ অনেক উন্নত হয়েছে।’’ পাশাপাশি নগাঁও-ভুরাগাঁওয়ের সংযোগকারী উড়ালপুলেরও উদ্বোধন করেন গগৈ। ভোটের বাজারে উচ্চশিক্ষিত তরুণদের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গগৈ বলেন, ‘‘শীঘ্রই রাজ্যের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দুধ ব্যবসায়ী ও সবজি বিক্রেতাদের জন্য প্রকল্প হাতে নেবে রাজ্য সরকার। পরিকাঠামোর অভাবে ছোট ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয় তা রুখতেই নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে। দুধ এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য সংক্রান্ত গবেষণার জন্য রাজ্যে গড়া হবে ‘ডেয়ারি সায়েন্স কলেজ’।’’ শহরে দুধ বা সবজি বিক্রেতাদের যাতে পুলিশ বা প্রশাসন অকারণে নাজেহাল না করে— সে জন্য প্রশাসনকে নির্দেশও দেন গগৈ। গত সপ্তাহের শুক্রবার শ্রীমন্ত শঙ্করদেব সঙ্ঘের বার্ষিক অধিবেশনে এসেছিলেন মোদী। এই প্রথম কোনও প্রধানমন্ত্রী ওই অধিবেশনে এলেন। সঙ্ঘের পদাধিকার ভবেন্দ্রনাথ ডেকা মঞ্চেই মোদীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঘোষণা করে দেন, ‘‘আপনি এগিয়ে চলুন। আমরা আপনার সঙ্গে আছি।’’ দেশজুড়ে সঙ্ঘের সদস্য সংখ্যা বিশ লক্ষেরও বেশি। ‘বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণে’ গগৈ শনিবার সঙ্ঘের অধিবেশনে গিয়ে ঘোষণা করেছেন, শ্রীমন্ত শঙ্করদেব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তিনি পাঁচ কোটি টাকা দেবেন। এমনকী উদ্যোক্তাদের হাতে মঞ্চ থেকেই তড়িঘড়ি পাঁচলক্ষ টাকার চেকও তুলে দেন তিনি। আজ গগৈ শঙ্করদেব বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে জানান, শিবসাগরে শঙ্করী সঙ্ঘের সংস্কৃতি প্রকল্পে তিনি আরও এক কোটি টাকা দেবেন। গগৈ প্রশ্ন তোলেন, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সর্বানন্দ সোনোয়াল বা তাঁর দল শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নামে রাজনীতি করা ছাড়া আর কী করেছেন? তিনি বলেন, ‘‘দেশ জুড়ে শঙ্করদেবের নাম ছড়ানোর জন্য বা রাজ্যে শঙ্করীধর্মের প্রসারে রাজ্য সরকারই যা করার করে আসছে। বিভিন্ন সত্রকে সাহায্য করা হচ্ছে। আয়োজন করা হচ্ছে ‘ভাওনা’ সমারোহ। বিভিন্ন সরকারি ভবনের নামে মহাপুরুষের নাম যুক্ত করা হচ্ছে। আমরা শঙ্করের আর্দশ নিয়ে অপশক্তিদের বিরুদ্ধে লড়ব।’’
গগৈয়ের অভিযোগ, ‘‘বিজেপি ও আরএসএস বিভিন্ন সত্রে প্রভাব বাড়াতে চাইছে। সম্প্রতি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত দু’বার রাজ্যে ঘুরে গিয়েছেন। তাদের মূল লক্ষ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভঙ্গ করা। তারা রাজ্যে রাজনীতির স্বার্থে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে।’’ বিজেপি নেতা হিমন্তবিশ্ব শর্মা এবারের নির্বাচনকে ‘সরাইঘাটের শেষ যুদ্ধ’ বলেছেন। গগৈ সেই প্রসঙ্গ টেনে জানান, তিনিও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। যুদ্ধের পরে রাজ্য থেকে গেরুয়া দল নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তাঁর কথায়, ‘‘মোদীর জনবিরোধী নীতিগুলি মানুষ ধরে ফেলেছেন। রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লোকসভা ভোটের পর থেকেই এনডিএ পালটি খেয়েছে। ব্যর্থতা ঢাকতে নিয়ম করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের রাজ্যে পাঠাচ্ছেন মোদী।’’
প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে এ দিন বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, মোদী ৭৪টি জীবনদায়ী ওষুধে আমদানি শুল্ক হ্রাস করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করায় ওষুধগুলির দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের অধীনে দেশে ওষুধ নির্মাণে জোর দেওয়ার জন্য মোদী সরকারের নেওয়া ওই সিদ্ধান্ত জনবিরোধী।