জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তরুণী। বিয়ের দিন নিয়ে আর পাঁচজনের মতোই নানা স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। কোন রঙের শাড়ি পরবেন, কী ধরনের মানানসই গয়না পরবেন, চুল কী ভাবে বাঁধবেন— এ সব নিয়ে মনে মনে আকাশকুসুম ভাবতেন তিনি। কিন্তু বয়স বাড়তে না বাড়তেই এক অদ্ভুত রোগ হল তাঁর। অ্যালোপেশিয়া রোগে আক্রান্ত তিনি।
চুল পড়তে পড়তে মাথায় প্রায় টাক পড়ে গিয়েছে তরুণীর। কিন্তু তা নিয়ে বিন্দুমাত্র লজ্জিত নন তিনি। লাল রঙের লেহঙ্গা-চোলিতে হাসিমুখে বিয়ের মণ্ডপে হাজির হলেন তরুণী। পরচুলা পরার ধারই ধারেননি তিনি। বরং বিয়ের আগে মাথা মুড়িয়ে ফেলেন তরুণী। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় বিয়ের ছবি এবং ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তরুণীর নাম মহিমা ঘাই। গত বছর বিয়ে হয়েছে তাঁর। নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে বিয়ের ছবি এবং ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন মহিমা। সেই ছবি এবং ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, জমকালো লাল রঙের লেহঙ্গা-চোলি পরেছেন তিনি। কিন্তু মাথায় একগোছাও চুল নেই তাঁর। বিয়ের অনুষ্ঠানে পরচুলাও পরেননি মহিমা। আসলে, অ্যালোপেশিয়া আক্রান্ত হওয়ায় মহিমার চুল উঠতে শুরু করে।
বিয়ের দিনক্ষণ এগিয়ে আসার সময় মহিমা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন যে, এই শুভ দিনে পরচুলা পরে নিজেকে আড়ালে রাখবেন না তিনি। বরং নিজের সৌন্দর্যকে আরও বেশি করে আপন করে নেন মহিমা। কোনও রাখঢাক না রেখে পুরো মাথাটাই মুড়িয়ে ফেললেন তিনি। বিয়ের পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরলেন ঠিকই। কিন্তু পরচুলা পরলেন না।
সমাজমাধ্যমে মহিমার বিয়ের ‘লুক’ প্রকাশ্যে আসতেই প্রশংসার ঝড় বয়ে যায়। মহিমার এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়ে এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘আপনাকে খুব মিষ্টি লাগছে দেখতে। আপনি যে সমাজের পরনিন্দা-পরচর্চাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই পদক্ষেপ করেছেন, তা দেখেই খুব ভাল লাগছে। আগামী জীবন আলোয় আলোয় ভরে উঠুক আপনার।’’