চিকিত্সকের গাফিলতির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল করিমগঞ্জের রেডক্রস হাসপাতাল। গত রাত থেকে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। আজ সকালে উত্তেজনা চরমে উঠলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিরাট বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। হাজির হন এক ম্যাজিস্ট্রেটও।
করিমগঞ্জ শহরের বনমালি রোডের সন্তানসম্ভবা মধুমিতা ভট্টাচার্যকে রেডক্রস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সরকারি চিকিত্সক আশিষ বিশ্বাস সিজার করেন। কিন্তু গত কাল থেকে প্রসূতি পেটে ব্যথা অনুভব করতে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে কর্তব্যরত নার্সদের বিষয়টি জানানো হয়। তাঁরা ব্যথা কমে যাবে বলে আশ্বস্ত করেন। কিন্তু কোনও ভাবেই পেটের ব্যথা কমেনি। পরিবারের লোকরা বারংবার আশিষবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু তিনি আসতে রাজি হননি। রেডক্রস হাসপাতালের সম্পাদক মনোজ দাস চিকিত্সককে আসতে বলেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। প্রসূতির অবস্থা আরও খারাপ হয়।
পরিবারের বক্তব্য, মধুমিতার ঠোঁটগুলো কালো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত যখন চিকিত্সক হাসপাতালে আসেন, ততক্ষণে সব শেষ। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন প্রসূতি। চিকিত্সকের চরম গাফিলতিতে প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবার অভিযোগ করেন। রেডক্রস হাসপাতালের সম্পাদক মনোজবাবুকে চেপে ধরেন আত্মীস্বজনরা। রেডক্রস হাসপাতালের সম্পাদকও সদুত্তর দিতে পারেননি। ফলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এ ভাবে শুক্রবার রাত অতিবাহিত হওয়ার পর আজ সকাল থেকেই গোলমাল শুরু হয়। খবর পেয়ে ছুটে আসেন উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থও। ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দেন তিনি। চিকিত্সকের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জের সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রসূতির স্বামী দেবাশিস ভট্টাচার্য। এ দিকে, চিকিত্সক আশিষ কুমার বিশ্বাস আত্মগোপন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। চিকিত্সকের প্রতিক্রিয়া জানতে বারংবার তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।