Advertisement
E-Paper

পাসপোর্টের গেরোয় হেনস্থা চেক পোস্টে

বাংলাদেশ কার্যত বিনা নোটিসে হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে ঢোকা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আগরতলার মানুষ। ভিসা থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার অন্তত ৪৫ জন সীমান্তের চেক পোস্ট পার হতে না-পেরে থেকে ফিরে এসেছেন।

বাপি রায় চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৫ ০৩:২৮

বাংলাদেশ কার্যত বিনা নোটিসে হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে ঢোকা বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন আগরতলার মানুষ। ভিসা থাকা সত্ত্বেও বৃহস্পতিবার অন্তত ৪৫ জন সীমান্তের চেক পোস্ট পার হতে না-পেরে থেকে ফিরে এসেছেন। আগে বাংলাদেশে যাওয়া ৫২ জনও ফেরার পথে আটকে পড়েন। পরে ত্রিপুরার মুখ্যসচিব দিল্লিকে বিষয়টি জানালে বিদেশ মন্ত্রক ঢাকার সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ফেরার ব্যবস্থা করে। কিন্তু সারা দিন চেক পোস্টে আটকে থেকে তাঁরা নাকাল হন।

ভারতের ইমিগ্রেশন আধিকারিক কাজল দাস বলেন, ‘‘বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন অফিস থেকে কাল বিকেলে আমাকে ফোন করে জানায়, ২৬ নভেম্বর থেকে যেন হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে কোনও যাত্রীকে আমাদের দিক থেকে না-ছাড়া হয়।’’ কাজলবাবু জানান, তিনি এর পর বিষয়টি তার অফিসে জানিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার সকালে এক জন মহিলা ভিসা নিয়েই এসেছিলেন বাংলাদেশের আখাউড়া যাবেন বলে। তাঁর এক আত্মীয় মারা গিয়েছেন। কিন্তু তাঁকেও যেতে দেওয়া হয়নি।

ভারতীয় যাত্রীদের দাবি, বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনে তাঁরা ভিসা নিতে গেলেও কিছু জানানো হয়নি। এমনকী হাতে লেখা পাসপোর্টে ভিসাও দেওয়া হয়েছে।

আগরতলার সুমন দাস এসেছিলেন এক আত্মীয়ের বিয়েতে কুমিল্লা যাবেন বলে। কিন্তু একই কারণে তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছে। মাথায় হাত সুমনবাবুর। ভারতীয় চেক পোস্টের এক অফিসার জানান, ইন্টারন্যাশনাল মেসিন রিডেবল পাসপোর্ট করাতে হয় কলকাতা থেকে। আগরতলায় তার ব্যবস্থা নেই। ত্রিপুরা থেকে বাংলাদেশ যাওয়া যাত্রীদের ৬০ শতাংশই যান ইন্দো-বাংলা পাসপোর্ট নিয়ে, যা মেশিন রিডেবল নয়। কিন্তু বাংলাদেশের চেক পোস্টে আর সেই পাসপোর্ট নেওয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশের ভিসা অফিসের দ্বিতীয় সচিব আলমগীর হোসেন জানান, ‘‘বুধবার বিকেলে আমাদের কাছে নির্দেশ আসে যে হাতে লেখা পাসপোর্টে যেন ভিসা না-দেওয়া হয়। আজ থেকে আমরা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ছাড়া ভিসা দিচ্ছি না।’’

এ দিন বাংলাদেশ থেকে ফেরার সময়ে একই কারণে চেক পোস্টে আটকে পড়েন ৫২ জন। এঁদের এক জন রাজু পাল বলেন, ‘‘আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়, ফিরতে পারবেন না। আমরা বলি, কোথায় যাব? তাঁরা বলেন, নিয়ম নিয়মই!’’ রাজু জানান, সকাল থেকে তাঁরা উদ্বেগ নিয়ে বসে থেকেছেন। খাওয়াটুকুও জোটেনি।

ত্রিপুরার লোকেরা ফিরতে না-পেরে আটকে রয়েছেন খবর পেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রককে বিষয়টি জানান। বিদেশ মন্ত্রক এর পরে বিষয়টি বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রককে জানানোর পরে সন্ধ্যায় আটকে পড়া যাত্রীদের ফিরতে দেওয়া হয়। রাজু জানান, অনেকেই সারা দিন আটকে থাকার পরে কাছাকাছি আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে ফিরে গিয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy