Advertisement
E-Paper

বুখারি-সনিয়া বৈঠক নিয়ে অসন্তোষ কংগ্রেসেই

আর চার দিন বাদেই লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। তার আগে দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারির সঙ্গে সনিয়া গাঁধীর বৈঠককে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরেই অসন্তোষ ছড়াচ্ছে। প্রকাশ্যে অবশ্য হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না কেউ। কিন্তু ঘরোয়া আলোচনায় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের আশঙ্কা, সনিয়া-বুখারি বৈঠক নিয়ে যে হইচই শুরু হয়েছে, তাতে আখেরে দলেরই ক্ষতি হতে পারে। কারণ, এই বৈঠককে সামনে রেখেই মেরুকরণের রাজনীতিতে এ বার ঘি ঢালতে নামবে বিজেপি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৪ ০৪:০২

আর চার দিন বাদেই লোকসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট। তার আগে দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম সৈয়দ আহমেদ বুখারির সঙ্গে সনিয়া গাঁধীর বৈঠককে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের অন্দরেই অসন্তোষ ছড়াচ্ছে। প্রকাশ্যে অবশ্য হাইকম্যান্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলছেন না কেউ। কিন্তু ঘরোয়া আলোচনায় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশের আশঙ্কা, সনিয়া-বুখারি বৈঠক নিয়ে যে হইচই শুরু হয়েছে, তাতে আখেরে দলেরই ক্ষতি হতে পারে। কারণ, এই বৈঠককে সামনে রেখেই মেরুকরণের রাজনীতিতে এ বার ঘি ঢালতে নামবে বিজেপি।

বস্তুত আজ হয়েছেও তাই। সনিয়া-বুখারি বৈঠক নিয়ে গত কাল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি। আজ সেই অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী বলেন, “নির্বাচন এগিয়ে আসতেই কংগ্রেস তাদের পুরনো ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির খেলায় নেমে পড়েছে।” এই মন্তব্য করে মোদীও যে বিজেপি-র অনুকূলে সংখ্যাগুরু ভোটের মেরুকরণ করতে চাইছেন, সে বিষয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদেরও সংশয় নেই। এ নিয়ে কংগ্রেসকে বিঁধেছে বিজেপির জোটসঙ্গী শিবসেনাও।

বিজেপি ও তার জোটসঙ্গীরা যত এ নিয়ে সরব হচ্ছে, তত কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ জমা হচ্ছে। দলের অনেক নেতাই মনে করছেন, এ জন্য কেবল সনিয়া গাঁধীকে দায়ী করা ঠিক হবে না। দশ জনপথের ঘনিষ্ঠ কংগ্রেসের রাজনৈতিক ম্যানেজারেরাই তাঁকে ভুল পরামর্শ দিচ্ছেন। কংগ্রেসের এই নেতাদের বক্তব্য, সংখ্যালঘুরা এ বার এমনিতেই বিজেপি-কে ভোট দেবেন না। নরেন্দ্র মোদীকে তো নয়ই। তার পরেও ভোটের আগে লোক দেখিয়ে জামা মসজিদের ইমামের সঙ্গে বৈঠকের কোনও প্রয়োজন ছিল না।

শুধু তাই নয়, তাঁদের এ-ও বক্তব্য, একে তো গোটা দেশের মুসলিমদের ওপর বুখারির খুব বেশি প্রভাব নেই। তা ছাড়া আহমেদ বুখারির বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি রয়েছে। অতীতে এনডিএ জমানায় অটলবিহারী বাজপেয়ীকে সমর্থন জানিয়েছিলেন বুখারি। পরবর্তী কালে, উত্তরপ্রদেশে গত বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সমাজবাদী পার্টিকে সমর্থন জানান। কিন্তু তাঁর জামাইকে মন্ত্রী না করায় মুলায়ম সিংহের ওপর ক্ষেপেছেন বুখারি। তাই ক’দিন আগে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমামদের এক বৈঠকে ডেকে তিনি বহুজন সমাজ পার্টিকে সমর্থন করার কথা বলেন। তার পর এখন কংগ্রেসের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই নেতাদের বক্তব্য, ভোটের আগে বুখারি ফের ভোল বদলালে মুখ পুড়তে পারে কংগ্রেসের। ঘটনাচক্রে আজই বুখারির ভাই জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসই দেশের সব থেকে বেশি সাম্প্রদায়িক দল!

মজার বিষয় হল, সনিয়া-বুখারি বৈঠক নিয়ে কংগ্রেসের সংখ্যালঘু নেতাদেরও অনেকে খুশি নয়। তাঁরা মনে করছেন, সনিয়ার সঙ্গে বৈঠক করে বুখারি নিজের উচ্চতা বাড়াতে চাইছেন। কংগ্রেসের এক সংখ্যালঘু নেতা তথা ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য জানান, ওই বৈঠকে বুখারি প্রস্তাব দিয়েছেন যে, ভোটের আগে তাঁর এক প্রতিনিধি দল বিভিন্ন শহরে সাংবাদিক বৈঠক করবে। এবং সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার জন্য আবেদন জানাবে। কিন্তু বুখারির সেই প্রস্তাবে আপত্তি কংগ্রেসের সংখ্যালঘু নেতাদেরই। তাঁদের মতে, তাতে মেরুকরণের পরিবেশ আরও তীব্র হবে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস মুখপাত্ররা আজ সনিয়া-বুখারি বৈঠক নিয়ে অবশ্য নতুন কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু মুশকিল হল, বুখারি থেমে নেই। তিনি আজও সাংবাদিকদের বলেন, “যত বার কংগ্রেসের নেতারা জামা মসজিদের সিঁড়ি বেয়ে উঠে শাহি ইমামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, তত বার সংখ্যালঘুরা কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছে। সাতের দশকে ইন্দিরা গাঁধীও ভোটের আগে বুখারির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।”

bukhari sonia gandhi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy