অফিসের চার সহকর্মী অধিকাংশ সময় একসঙ্গেই সময় কাটাতেন। একসঙ্গে চা খেতে যাওয়া থেকে শুরু করে অফিসের অন্য সহকর্মীকে নিয়ে পরনিন্দা-পরচর্চাও করতেন একসঙ্গে। হঠাৎই তাঁদের মধ্যে এক জন সেই অফিসে ছেড়ে নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অফিসের অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বন্ধুস্থানীয় সহকর্মীকে বিদায় জানাতে বাকি তিন জন দামি উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দামি উপহার কিনতে গিয়ে নিজেদের খরচের ভাগ বেশি পড়ে যাওয়ায় অন্যদের কথা মনে পড়ল তাঁদের। খরচ কমাতে বুদ্ধি আঁটলেন ওই তিন জন। চালাকি করে অন্য সহকর্মীদেরও সেই উপহারের টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তা নিয়েই এক তরুণ অধস্তন কর্মী আপত্তি জানিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন (যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
‘আর/ইন্ডিয়ানওয়ার্কপ্লেস’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে রেডিটের পাতায় পোস্ট করেছেন এক তরুণ। বেঙ্গালুরুর এক বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন তিনি। তরুণের দাবি, তাঁদের অফিসে কোনও সহকর্মী চাকরি ছেড়ে দিলে তাঁকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয় না। এমনকি, বিদায়কালে সংস্থার তরফে কোনও উপহার দেওয়া হয় না। তরুণের চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তিন জন চাকরি ছেড়ে গিয়েছেন। কিন্তু কোনও বারই তার অন্যথা হয়নি। কয়েক দিন পর আরও এক সহকর্মীর চাকরি ছেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু এ বার বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে ১,১৫০ টাকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু সংস্থার ঊর্ধ্বতনের পরিবর্তে সেই নির্দেশ দেন অফিসের তিন সহকর্মী। তাতেই খেপে যান তরুণ।
Team split a Rs 15k farewell gift bill without asking. Am I wrong to feel annoyed?
byu/slay_it_dude inIndianWorkplace
সমাজমাধ্যমে পুরো বিষয়টি জানান তিনি। যে সহকর্মী চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাঁর ঘনিষ্ঠ তিন সহকর্মী ব্যক্তিগত ভাবে উপহার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তা নিয়ে অফিসের বাকি সহকর্মীরা বিন্দুমাত্র অবগত ছিলেন না। বন্ধুস্থানীয় সহকর্মীর জন্য উপহার কিনতে গিয়ে ১৫ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেন তিন জন। তখন তাঁদের মাথায় পড়ে হাত। তিন জনের মধ্যে সেই খরচ ভাগ করে নিলে মাথাপিছু ৫ হাজার টাকা পড়ত। উপহারের জন্য তত খরচ করার ইচ্ছা ছিল না তাঁদের। এ দিকে উপহার না দিলেও খারাপ দেখায়। তাই তিন জন মিলে খরচ কমানোর ফন্দি এঁটে ফেললেন।
আরও পড়ুন:
তাঁদের বিভাগে মোট ১৩ জন সহকর্মী ছিলেন। উপহারের খরচ সকলের মধ্যে ভাগ করে নিলে মাথাপিছু ১,১৫০ টাকা খরচ হয়। সেখান থেকে ১৪,৯৫০ টাকা উঠে যায়। বাকি ৫০ টাকা না হয় তিন জনে ভাগাভাগি করে নেবেন! চটপট উপহার কিনে বাকি সহকর্মীদের টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে দিলেন ওই তিন জন। ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই তরুণ অধস্তন লেখেন, ‘‘আগে থেকে উপহারের টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়নি। তিন জন আলাদা ভাবে উপহার দিতে চেয়েছিলেন। নিজেদের খরচের ভাগ কমাতে বাকিদের উপর জুলুম করছেন। আমি তো আগে থেকে কিছুই জানতাম না। তা হলে অযথা টাকা দিতে যাব কেন?’’
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে তাঁর কী করা উচিত সেই প্রসঙ্গে নেটপাড়ার কাছে পরামর্শ চেয়েছেন তরুণ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘অনুমতি না নিয়ে এত দামি উপহার কেনা ঠিক হয়নি। তাঁরা নিজেদের খরচই বা এ ভাবে ভাগ করে নিতে চাইছেন কেন? সংস্থার তরফে উপহার দেওয়া হলে আপত্তির জায়গা থাকত না। সংস্থার তরফেই মাথাপিছু খরচের পরিমাণ নির্দিষ্ট করা থাকে। কিন্তু এখানে স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য অন্য সহকর্মীদের ঠকানো হয়েছে।’’