Advertisement
E-Paper

বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতিতে বাবুল

পশ্চিমবঙ্গ। সভাপতি হওয়ার আট মাস পর দলের জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করলেন অমিত শাহ। আর বাবুল সুপ্রিয়কে বিশেষ আমন্ত্রিত করে আনা হল এই সমিতিতে। উল্লেখযোগ্য ভাবে সমিতিতে ঠাঁই পেলেন না কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। এপ্রিলের গোড়ায় বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক বসছে বেঙ্গালুরুতে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মার্চ ২০১৫ ০৩:৩২

পশ্চিমবঙ্গ। সভাপতি হওয়ার আট মাস পর দলের জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করলেন অমিত শাহ। আর বাবুল সুপ্রিয়কে বিশেষ আমন্ত্রিত করে আনা হল এই সমিতিতে। উল্লেখযোগ্য ভাবে সমিতিতে ঠাঁই পেলেন না কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।

এপ্রিলের গোড়ায় বিজেপির কর্মসমিতির বৈঠক বসছে বেঙ্গালুরুতে। সেখানে বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কৌশল রচনা হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নজর দিতে দু’দিন আগেই কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণকে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার নির্দেশ দেন অমিত শাহ। নির্মলার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজটি আগেই শুরু করে দিয়েছিলেন বাবুল। এমনকী নির্মলাকে বাংলা শেখানোর ভারও নিয়েছেন। তার পরেই আজ পশ্চিমবঙ্গকে মাথায় রেখে বাবুলকে বিশেষ আমন্ত্রিত করে নিয়ে আসা হল সমিতিতে। বাবুল বলেন, “এই সিদ্ধান্তে আমি খুশি। সকলে মিলে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে রাজ্যের জন্য। যেখানে যা কিছু ফাঁকফোকর রয়েছে, সেগুলিও পূরণ করা হবে।”

দলের অনেকেই আবার মনে করছেন, স্মৃতি ইরানিকে এই সমিতিতে না রাখার পিছনেও বাংলার অঙ্ক থাকতে পারে অমিত শাহের মাথায়। এমনকী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে এনে স্মৃতিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এর একটা কারণ স্মৃতি নিজে ভাল বাংলা বলতে পারেন। ফলে বাংলার মানুষের সঙ্গে তিনি স্বচ্ছন্দে মিশতে পারবেন বলে মনে করছে দল। আর দিন কয়েকের মধ্যে অমিত শাহ নিজের টিমেও পরিবর্তন আনতে চলেছেন। সেখানেই স্মৃতিকে নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। দিল্লির নির্বাচনের সময়ও একবার স্মৃতির নাম এ ভাবে ভেসে উঠেছিল। কিন্তু অরবিন্দ কেজরীবালকে টক্কর দেওয়ার জন্য পরে কিরণ বেদীকে আনার সিদ্ধান্ত নেয় দল। সমিতিতে মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে স্মৃতির অনুপস্থিতিই সবচেয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে বিজেপি শিবিরে। কারণ, মোদী সরকারের সব ক্যাবিনেট ও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এই সমিতিতে রয়েছেন। এমনকী বিতর্কিত মন্তব্য করার পরেও বাদ যাননি সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ নেত্রী নিরঞ্জন জ্যোতিও। সদ্য ভিন্ দল থেকে আসা সুরেশ প্রভু, বীরেন্দ্র সিংহ, রাও ইন্দ্রজিৎ সিংহের মতো নেতা, অভিনেতা সুরেশ ওবেরয় থেকে শুরু করে কিরণ খেরও যেখানে রয়েছেন, সেখানে কেন স্মৃতি বাদ পড়লেন, তা নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।

যদিও একা স্মৃতি নন, সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী নাজমা হেফতুল্লাও ঠাঁই পাননি সমিতিতে। খুব শীঘ্রই পঁচাত্তরে পা দিচ্ছেন নাজমা। পঁচাত্তরের উর্ধ্বে কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখা হবে না বলে আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সঙ্ঘ। সে ক্ষেত্রে রাজ্যপাল বা অন্য কোনও পদের জন্য নাজমার নাম ভাবা হতে পারে বলে মনে করছে দলের একাংশ। স্মৃতি-নাজমার সঙ্গে বাদ পড়েছেন হেমা মালিনীও। লালকৃষ্ণ আডবাণী এবং নিতিন গডকড়ীর ঘনিষ্ঠদের সমিতি থেকে বাদ দিয়ে অমিত শাহ এমন সব নেতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন, যাঁরা বিভিন্ন রাজ্যে দলের জন্য কাজ করে গুরুত্ব অর্জন করেছেন। সেই সঙ্গে নতুন কিছু যুব মুখও তুলে এনেছেন সভাপতি।

কিন্তু বিজেপিরই একটি সূত্রের মতে, স্মৃতিকে বাদ দেওয়ার পিছনে অন্য কারণ থাকাটাও অসম্ভব নয়। স্মৃতি প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হলেও তাঁর মন্ত্রকের কাজকর্ম নিয়ে গত ন’মাসে নানা মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আর তাতে নাকি সন্তুষ্ট নন খোদ প্রধানমন্ত্রীই। অমিত শাহের সঙ্গেও সম্পর্ক মধুর নয় স্মৃতির। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে মন্ত্রকের নানা বিষয় নিয়ে বিতর্কও হয়েছে বিস্তর। আবার সঙ্ঘের কর্মসূচির সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে গিয়েও অনেক বার অপ্রিয় হতে হয়েছে স্মৃতিকে। সে কারণে সঙ্ঘও তাঁর নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টিতে আপত্তি করেনি। আর তাই তাঁকে মন্ত্রক থেকে সরানোর জল্পনাও এখন তুঙ্গে।

bjp's working committee babul supryo
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy