সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর শিলচর অধিবেশন ও শ্রীভূমি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের শতবর্ষ পালনে গত কাল বার বার শোনা গিয়েছে বহুত্বের সুর।
আয়োজক বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলার সভাপতি তৈমুর রাজা চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সভাপতি নীতীশ ভট্টাচার্য, সম্পাদক গৌতম প্রসাদ দত্ত থেকে শুরু করে ডিমাসা সাহিত্য সভার কেন্দ্রীয় উপ-সভাপতি বিশ্বজ্যোতি বর্মন, মণিপুরি সাহিত্য পরিষদের কাছাড় জেলা সাধারণ সম্পাদক এম শান্তিকুমার সিংহ— সবাই বিভিন্ন ভাষাগোষ্ঠীকে একসঙ্গে নিয়ে চলার অঙ্গীকার করেন।
এমনকী, অসম সাহিত্য সভার কাছাড় জেলা সভাপতি নগেন্দ্রচন্দ্র বড়োও বলেন, ‘‘মাতৃভাষাকে প্রচণ্ড ভালবাসার অর্থ এই নয় যে, অন্যের ভাষাকে অশ্রদ্ধা করব।’’ সব ভাষার, সব জনগোষ্ঠীর সম-উন্নয়ন, সম-বিকাশে গুরুত্ব দেন তিনি। বাংলা ভাষা শেখার জন্য নিজেকে গর্বিত বলেও দাবি করেন।
শতবার্ষিকী উদযাপনে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাছাড় জেলা কমিটি বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিল। গত কাল সকালে শোভাযাত্রা করে ভাষাশহিদ স্মৃতিসৌধ ও রামকুমার নন্দী মজুমদার স্মৃতি ফলকে শ্রদ্ধা জানায়। সন্ধ্যায় ভাষা সাহিত্য চর্চার বিকাশে সাহিত্য সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। তাতে অংশ নেন সাহিত্যিক ইমাদউদ্দিন বুলবুল ও তুষারকান্তি নাথ। সংযোজক সঞ্জীব দেবলস্কর।
অধিবেশনের উদ্বোধক শিলচর মহিলা কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা পরিমল দে ৮৮ বছর বয়সে স্পষ্ট উচ্চারণে সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন ‘আগুনের পরশমণি’। তিনি বলেন, ‘‘গান-বাজনা, সাহিত্য চর্চায় ছেলেমেয়েদের পড়ার ক্ষতি হতে পারে বলে একাংশ অভিভাবকের ধারণা একেবারেই অমূলক। তাঁদের এই চিন্তাধারা বদলাতে হবে।’’
একশো বছর আগে সুরমা সাহিত্য সম্মিলনীর শিলচর অধিবেশন যে গানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেই গানই উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে পরিবেশিত হয়। পরিবেশন করেন সুদীপ চক্রবর্তী ও তাপসী দত্ত। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয় নৃত্যালয়ম, সমকাল, কৃষ্টি বিবেক ও বরাক তরঙ্গের শিল্পীরা।