যাত্রীদের কাছ থেকে লাগাম ছাড়া টিকিটের দাম নেওয়ার ক্ষেত্রে বিমানসংস্থাগুলিকে সতর্ক করল কেন্দ্র। অভিযোগ, বিশেষ কয়েকটি রুটে, বছরের বিশেষ সময়ে শেষ মূহূর্তে টিকিট কাটলে আকাশ ছোঁওয়া দাম চাইছে বিমানসংস্থাগুলি। একেবারে জরুরি কারণে যেতে বাধ্য হয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা। বাধ্য হয়েই লাগাম ছাড়া দাম দিয়ে টিকিট কাটছেন। অনেক দিন ধরেই কেন্দ্র সরকারের কাছে এমন অভিযোগ জমা পড়ছিল।
এ দিন একটি ইংরাজি দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশের বিমান প্রতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা জানিয়েছেন, এ ভাবে লাগাম ছাড়া ভাড়া নেওয়ায় বদনাম হচ্ছে বিমানসংস্থাগুলির। তিনি বলেন, ‘‘কোনও সময়েই বিমান ভাড়া যাতে সাধ্যের বাইরে চলে না যায় তা নিয়ন্ত্রণ করতে কেন্দ্র সরকার বধ্যপরিকর এবং তা করাও হবে। প্রথমে তা আলোচনার মাধ্যমে করার চেষ্টা করা হবে। না শুনলে অন্য ব্যবস্থা।’’ এই কথার প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে বিমানমন্ত্রী অশোক গজপতি রাজুর কথাতেও। এই মাসের শেষে এ নিয়ে বিমানসংস্থাগুলির সঙ্গে বৈঠক হবে বলেও রাজু এ দিন জানিয়েছেন।
বিমান পরিবহণের বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর ২০ শতাংশ করে যাত্রী বাড়ছে ভারতের আকাশে। যাত্রী টানতে নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় নেমে কখনও এক হাজার টাকার নীচেও টিকিট দিয়ে দিচ্ছে বিমানসংস্থাগুলি। এ ভাবে যাত্রীদের প্রলোভিত করে শেষে বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। কলকাতা-দিল্লি, কলকাতা-মুম্বই, দিল্লি-মুম্বই-এর মতো রুটে, বিশেষ করে উৎসবের মরসুমে, পুজোর সময়ে শেষ মূহূর্তে টিকিটের দাম বেড়ে এক পিঠে হয়ে যাচ্ছে ২০ হাজার টাকার কাছাকাছি। বাধ্য হয়েই সেই টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। এই টিকিট বিক্রির দিকে তাকিয়ে থাকছে বিমানসংস্থাগুলি। কারণ, শেষের এই টিকিট বিক্রি করেই মুনাফা লুটছে তারা। আর এতেই আপত্তি জানিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
তবে, মুক্ত অর্থনীতিতে এ ভাবে ইন্ডিগো, স্পাইসজেটের মতো বেসরকারি বিমানসংস্থা কত টাকায় টিকিট বিক্রি করবে তা কি কেন্দ্র সরকার ঠিক করে দিতে পারে বলে প্রশ্নও উঠেছে। এ নিয়ে সরকার কড়াকড়ি শুরু করলে শেষে বিমানসংস্থাগুলি আদালতের দ্বারস্থও হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংস্থার এক কর্তার কথায়, ‘‘আমরা কত টাকায় টিকিট বিক্রি করব তা আমরাই ঠিক করব। যখন আমরা ১ টাকায় টিকিট বিক্রি করছি তখন তো কেউ আপত্তি করছে না!’’