এ মাসের শেষে বিজেপি সভাপতি পদে অমিত শাহের নতুন ইনিংস শুরুর আগে দলের বিক্ষুব্ধ নেতারা ফের একজোট হচ্ছেন। এ বারের মঞ্চ দলের বিক্ষুব্ধ নেতা শত্রুঘ্ন সিনহার বই প্রকাশ অনুষ্ঠানকে ঘিরে।
আগামিকাল সন্ধ্যায় দিল্লির একটি হোটেলে ‘এনিথিং বাট খামোশ’ নামে শত্রুঘ্ন সিনহার জীবনী নিয়ে একটি বই প্রকাশ হচ্ছে। বই প্রকাশ করবেন বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী। এই অনুষ্ঠানে আর এক বিক্ষুব্ধ প্রবীণ যশবন্ত সিন্হারও উপস্থিত থাকার কথা। শুধু বিজেপিরই নয়, লালু প্রসাদ ও নীতীশ কুমারের মত নরেন্দ্র মোদী-বিরোধীদেরও এই অনুষ্ঠানে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলিউডের শটগান। এই বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন কংগ্রেসের নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী শশী তারুর। সূত্রের মতে, এই বইটিতে শত্রুঘ্নর রাজনৈতিক ‘গুরু’ আডবাণী ও সুষমা স্বরাজদের ভূয়সী প্রশংসা যেমন রয়েছে, তেমনই বিহারের নির্বাচনের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে দলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি খোঁচাও রয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে এ মাসের শেষেই অমিত শাহ বিজেপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হবেন। এতদিন তিনি রাজনাথ সিংহের অসমাপ্ত মেয়াদে সভাপতি ছিলেন। এ বারেই প্রথম তিনি পূর্ণ মেয়াদের জন্য সভাপতি হবেন। বিজেপির সংবিধান অনুযায়ী দলের যে কোনও সভাপতি তিন বছরের জন্য পরপর দু’দফায় সভাপতি থাকতে পারেন। সেই হিসেবে অমিত শাহ এ বারে সভাপতি হলে পরের লোকসভা নির্বাচনও তাঁর অধীনে হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু প্রথমে দিল্লি ও পরে বিহারের বিপর্যয়ের পর লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশী, যশবন্ত সিন্হা, শান্তা কুমাররা মিলে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন। অমিত শাহ যাতে দ্বিতীয় বার সভাপতি হতে না পারেন, তার জন্য সক্রিয়ও রয়েছেন তাঁরা।
বিহার নির্বাচনের পর্ব শুরুর আগে থেকেই শত্রুঘ্ন সিনহা দলের কার্যশৈলীর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অমিত শাহরা তাঁকে দলের কোনও দায়িত্বই দেননি। প্রবীণদের বিদ্রোহের পরেও সোচ্চার হয়েছিলেন শত্রুঘ্ন। এমনকী দিল্লি ক্রিকেট সংস্থায় দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি সাংসদ কীর্তি আজাদ যখন অরুণ জেটলির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছিলেন, সেই সময়ও শত্রুঘ্ন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। বিজেপি আজই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী রবিবার কীর্তি আজাদের বিষয় নিয়ে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠক বসবে। সেখানে স্থির হবে, কীর্তিকে নিয়ে কী করা হবে।