বিহার ভোটে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিজেপি। তার জেরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে বিরোধীদের আরও এককাট্টা হওয়ার সম্ভাবনা। সরকারের আশঙ্কা, সংসদে বিরোধীরা এ বার আরও এককাট্টা হবেন। সংস্কারের কর্মসূচিতে আরও বাধা আসবে। কিন্তু শিল্পমহল ও শেয়ার বাজারের স্নায়ু শান্ত করতে এখনই কিছু সংস্কারের কাজ করা প্রয়োজন বলে বুঝতে পারছে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কিছু পদক্ষেপ করতে চাইছে অরুণ জেটলির অর্থ মন্ত্রক। মন্ত্রকের দশ দফা পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে আয়করের সরলীকরণ, কর্পোরেট কর কমানোর রূপরেখা, সুদ নীতি কমিটি গঠনের মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। পাশাপাশি অরুণ জেটলি, বেঙ্কাইয়া নায়ডুরা জমি বিল, জিএসটি-র মতো বিষয়ে সংসদে বিরোধীদের সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টাও চালাবেন বলে ঠিক হয়েছে।
বিহার ভোটের ধাক্কার পর সোমবার বাজার খুলতেই শেয়ার বাজারে ধস নামবে, এমন একটা আশঙ্কা ছিলই। আজ সকাল থেকে সেই আশঙ্কাই সত্যি হওয়ায় ‘গেল, গেল’ রব ওঠে অর্থ মন্ত্রকে। অর্থমন্ত্রী একের পর এক সাক্ষাৎকারে বলতে থাকেন, আর্থিক সংস্কারের কর্মসূচি থেকে মোদী সরকার সরে আসছে না। কিন্তু শুধু ‘ভোকাল টনিক’-এ যে কাজ হবে না, অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা তা বুঝতে পারছিলেন। গত কাল শিল্পমহল যে ভাবে কড়া ভাষায় বাকি সব ছেড়ে মোদী সরকারকে সংস্কারে মন দিতে বলেছিল, তার পরেও দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়ে যায়। তাই এখনই শিল্পমহলকে আশ্বস্ত করতে কী কী করা সম্ভব, তার একটি তালিকা তৈরি করে কাজে নেমে পড়েন অর্থ মন্ত্রকের কর্তারা। শ্রম মন্ত্রক ও বাণিজ্য মন্ত্রকের কর্তাদের সঙ্গেও কথা বলে প্রাথমিক ভাবে দশ দফা কর্মসূচির তালিকা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি লগ্নির ছাড়পত্র দেওয়া, আইডিবিআই-এর মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বিলগ্নিকরণের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী জেটলির যুক্তি, ‘‘বিহার ভোটের ফলে সংস্কারে কোনও বাধা আসবে না। কারণ সংস্কারের অনেকটাই প্রশাসনিক স্তরে সিদ্ধান্ত নিয়ে করা হচ্ছে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতির সংস্কার, লাল ফিতের ফাঁস দূর করা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যত দ্রুত সম্ভব পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্র ও বিদেশি লগ্নির অনুমতি দেওয়ার কাজগুলি প্রশাসনিক স্তরেই হচ্ছে।’’ অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, কাঠামোগত সংস্কারের কাজও দ্রুত গতিতে চলবে। তবে সেখানে কিছু ক্ষেত্রে সংসদের সিলমোহরের প্রয়োজন পড়বে।
আজই মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ক কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২৬ নভেম্বর থেকে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে জিএসটি, আবাসন নিয়ন্ত্রণ বিল, দেউলিয়া বিল পাশ করানোর চেষ্টা হবে। সংসদে বিরোধীদের হট্টগোলের আশঙ্কায় এ দিনই সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নায়ডু বলে রেখেছেন, ‘‘বিহারের ভোটের ফল সংসদে অচলাবস্থা তৈরির জনাদেশ নয়।’’ এ কথা বললেও সংসদ চালানো যে সহজ হবে না, তা বুঝতে পারছেন মোদী-জেটলি। আর সেই কারণেই সংসদের বাইরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েই সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করছে অর্থ মন্ত্রক।