দিন কয়েক আগে গোয়ায় বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষিতা হয়েছিলেন দুই তরুণী। ঠিক তার পর পরই গোয়ার পর্যটনমন্ত্রী পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ধর্ষণে অভিযুক্ত পাঁচ যুবকের। দিলীপ পেরুলেকর বলেছিলেন, ‘‘ওরা ছোট ছেলে। বড় বড় পর্যটন কেন্দ্রে এ রকম ঘটনা হয়েই থাকে।’’ কাল ফের ধর্ষণ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের এক মন্ত্রী। নাম তোতারাম যাদব। ধর্ষণ নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশ্নে অখিলেশ সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ছেলে-মেয়েদের সম্মতিতেই ধর্ষণ হয়। তবে আজ ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে তোতারাম জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনও মন্তব্যই তিনি করেননি।
কাল মইনপুরে জেল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন তোতারাম। সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, রাজ্যে ধর্ষণ আদৌ নিয়ন্ত্রণ করা যায় কি না। তার উত্তরে তোতারাম বলে বসেন, ‘‘ধর্ষণ? ধর্ষণ বলে কিছু হয় না। যা হয় ছেলে-মেয়েদের সম্মতিতেই হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য মেয়েদের উপর জোর করা হয়।’’ প্রবীণ সমাজবাদী পার্টি নেতার মুখে এমন মন্তব্য শোনার পরই সমালোচনার ঝড় ওঠে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোয়। চাপে পড়ে দলের তরফ থেকেও তড়িঘড়ি একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়, ‘‘দল যেখানে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য এত কিছু করছে, সেখানে এই ধরনের মন্তব্যকে আমরা নিন্দা করি। ওই নেতার বিরুদ্ধে দল কড়া ব্যবস্থা নেবে।’’ আর এর পরেই নিজের মন্তব্য থেকে সরে দাঁড়ান তোতারাম। আজ সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, কাল ওই ধরনের কোনও মন্তব্যই তিনি করেননি। তাঁর নামে মিথ্যে রটানো হচ্ছে।
এর মধ্যে গোয়ার গণধর্ষণের ঘটনায় ফের বিতর্কিত মন্তব্য করেছে গোয়া পুলিশ। উত্তর গোয়ার পুলিশ প্রধান আজ জানিয়েছেন, ধর্ষিতা দুই তরুণী আদৌ পর্যটক নন। তাঁরা দেহব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। টাকা নিয়ে ঝামেলার জেরে অভিযুক্ত পাঁচ জন মিলে ওই তরুণীদের ধর্ষণ করে। তবে খোদ পুলিশ প্রধানের এ হেন মন্তব্যেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ধর্ষণের মতো ঘটনাকে লঘু করে দেখানোর জন্যই ধর্ষিতা তরুণীদের সঙ্গে দেহব্যবসার কথা জোড়া হয়েছে। পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, ধর্ষিতা দুই তরুণীর অপর এক সঙ্গী এক অভিযুক্তের আত্মীয়ের টাকা লুঠ করে পালিয়ে যায়। তরুণীদের চাপ দিয়ে ওই টাকা উদ্ধারের জন্যই তাঁদের অপহরণ করে পরে গণধর্ষণ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।