অমিত শাহের সঙ্গে মেহবুবা মুফতির বৈঠকের পরেও জম্মু-কাশ্মীরে সরকার গড়া নিয়ে জট কাটল না।
গত কাল বিজেপি সভাপতির সঙ্গে পিডিপি নেত্রীর আলোচনার পরে সমস্যা সমাধানের আশা দেখা গিয়েছিল কোনও কোনও শিবিরে। কিন্তু আজ বিজেপির জম্মু-কাশ্মীরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রাম মাধব বলেন, ‘‘সরকার গড়ার আগে নয়া কোনও শর্ত আরোপ করলে বিজেপি তা মানবে না। মুফতি সাহেবের সঙ্গে যে সমঝোতা হয়েছিল তাই বলবৎ রাখতে হবে।’’
৯ এপ্রিলের মধ্যে বিধানসভার অধিবেশন না ডাকলে রাজ্যপালের শাসনের মেয়াদ বাড়াতে হবে। বিজেপি সূত্রের মতে, তাতে মেহবুবার অসুবিধে হতে পারে। কিন্তু বিজেপির সমস্যা নেই। কারণ, রাজ্যপালের শাসনে বকলমে কেন্দ্রই সরকার চালায়। তাই সরকার গঠন নিয়ে বল মেহবুবার কোর্টেই ঠেলছে বিজেপি। পিডিপি সূত্রের মতে, মেহবুবা জোট করতে আগ্রহী। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে হাত মেলালে তাঁর ভোটব্যাঙ্কে আঁচ পড়বে। তাই কেন্দ্রের কাছ থেকে কিছু প্রতিশ্রুতি আদায় করতে চাইছেন মেহবুবা। যেগুলি দেখিয়ে তিনি সমর্থকদের শান্ত করতে পারবেন।
বিজেপি নেতাদের পাল্টা দাবি, মেহবুবা এমন সব দাবি করছেন যা এখন মানা সম্ভব নয়। যেমন উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহার, দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, ত্রাণের টাকা সরাসরি রাজ্যের হাতে আসা। সেগুলি আবার লিখিত আকারে চান তিনি। বিজেপির যুক্তি, হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের মতো পাহাড়ি রাজ্যে যে প্রথা চালু রয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে তার ব্যতিক্রম করতে গেলে বাকি রাজ্যও একই দাবি তুলবে। রাম মাধবের বক্তব্য, ‘‘সরকার গঠন হয়ে গেলে কেন্দ্রের কাছে কিছু দাবি করা যেতে পারে। রাজ্য সরকারের সব সময়েই সেই অধিকার আছে।’’
বিজেপি সূত্রে খবর, সরকার গঠনের আশা শেষ হয়ে যায়নি। মেহবুবা এখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।