মাঝ সমুদ্রে অগ্নিকাণ্ড। তাতে পুড়ে ছাই দুই পণ্যবাহী জাহাজ। রাশিয়া ও ক্রিমিয়ার মধ্যে কৃষ্ণসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত কার্চ জলপ্রণালীতে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সময় জাহাজকর্মী ও নাবিক মিলিয়ে দু’টি জাহাজে ৩২ জন ছিলেন। তাঁরা ভারত, তুরস্ক এবং লিবিয়ার নাগরিক। প্রাণে বাঁচতে জলে ঝাঁপ দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকে। যার মধ্যে ১২ জনকে উদ্ধার করেছে রুশ নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল। দেহ উদ্ধার হয়েছে ১০ জনের। নিখোঁজ ১০ জনের মধ্যে কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে আশঙ্কা। কোনও ভারতীয়র দেহ উদ্ধার হয়েছে কিনা জানার চেষ্টা চলছে। রুশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক।

রুশ সংবাদ সংস্থা টাস জানিয়েছে, জাহাজ দু’টিতে তানজানিয়ার পতাকা লাগানো ছিল। একটির নাম ছিল ক্যান্ডি (ভেনিস)। তাতে ১৭ জন যাত্রী ছিলেন। অন্যটির নাম ছিল মায়েস্ত্রো। দুর্ঘটনার সময় তাতে ছিলেন ১৪ জন। তরল অবস্থায় থাকা প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহন করছিল একটি জাহাজ। অন্যটিতে ওই জ্বালানি সরবরাহ করার সময় আচমকা বিস্ফোরণ ঘটে। তা থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ে দু’টি জাহাজেই। দুর্ঘটনার সময় কৃষ্ণসাগরে ঝোড়ো হাওয়া বইছিল। তার জেরেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন রুশ উপকূল নজরদারি সংস্থার মুখপাত্র অ্যালেক্সেই ক্রাভচেঙ্কো।

আরও পড়ুন: ৫৬ ইঞ্চি ছাতি নিয়ে রেসলার না হয়ে বাইচান্স পলিটিশিয়ান হয়েছেন, মোদীকে কটাক্ষ ববির​

আরও পড়ুন: রাজীব গাঁধীর ‘১৫ পয়সা’ তত্ত্ব তুলে কংগ্রেসকে বিঁধলেন মোদী​

দুর্ঘটনার সময় জাহাজ দু’টির অবস্থান যদিও কোনও দেশের জলসীমার মধ্যেই ছিল না, কিন্তু গোটা ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কারণ ক্যান্ডি এবং মায়েস্ত্রো, দু’টি জাহাজের উপর দীর্ঘদিন ধরে নজর ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারকে পেট্রল পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে।

যে কার্চ জলপ্রণালীর উপর দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি নিয়েও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চাপানউতোর দীর্ঘদিনের। গতবছর নভেম্বরে সেখান থেকে ইউক্রেন নৌবাহিনীর তিনটি রণতরী বাজেয়াপ্ত করে রুশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী। আটক করা হয় সে দেশের ২৪ জন নাবিককে। তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে রাশিয়ার সীমানার মধ্যে ঢুকে পড়ার অভিযোগ। কিন্তু তাদের দাবি খারিজ করে ইউক্রেন।