রঙের উৎসব তখনই সুন্দর হয়, যখন তা সকলের কাছে উপভোগ্য হয়ে ওঠে। বাঁচে পরিবেশ এবং চারপেয়ে জীবেরাও। শব্দদানবের তাণ্ডব, অতিরিক্ত জল নষ্ট বা রাসায়নিক রঙের ব্যবহার নয়— এই বছর দোল হোক পরিবেশবান্ধব। বদল কোথায় আনতে হবে?
প্লাস্টিক বাদ: জল দিয়ে গোলা রাং হোক বা আবির— সে সব মেলে প্লাস্টিকের প্যাকেটে। রং মাখাতে গিয়ে রাস্তাঘাটে প্লাস্টিকের প্যাকেট ছড়ালে তা দেখতে যেমন ভাল লাগে না, তেমনই তা পরিবেশবান্ধব নয়। এই প্যাকেট নর্দমার মুখ বন্ধ করে দিতে পারে, পুকুর বা জলাশয়ে ফেললে, তা থেকেও দূষণ ছড়াবে। প্লাস্টিকের প্যাকেট থেকে রং ঢেলে নিন কাচ, মাটি অথবা স্টিলের থালায়।
আরও পড়ুন:
রং নির্বাচন: রাসায়নিক মিশ্রিত রং শুধু ত্বকের ক্ষতি করে না, বাড়িয়ে দেয় দূষণও। স্নানের সময় এমন রং ধুয়ে নর্দমার মাধ্যমে গিয়ে মেশে বড় খাল, সেখান থেকে নদীতে। অনেক সময় ছোট জলাশয়, পুকুরেও মেশে এই জল। তাই রাসায়িনক বাদ, ভরসা থাকুক প্রাকৃতিক রঙে। গাঁদা, জবা, অপরাজিতার মতো ফুল, পালং বা সবুজ শাকসব্জি দিয়ে প্রাকৃতিক রং তৈরি করা যায় বাড়িতেই। আবির বানানোও কঠিন নয়। রাসানিকর বদলে বেছে নিন নিজের হাতে তৈরি ফুল-সব্জির রং বা আবির।
চারপেয়েরাও ভাল থাকুক: দোলের দিন মজা করেই পাড়ার কুকুর বা বিড়ালকে রাঙিয়ে দেন অনেকে। রং কিন্তু তাদের জন্য কম বিপজ্জনক নয়। রাসায়নিক রং থেকে চারপেয়ে জীবগুলির শ্বাসকষ্টও শুরু হতে পারে। তা ছাড়া এমন রং চোখে-মুখে ঢুকে গেলেও বিপদের শেষ থাকবে না। রং মাখানোর পরে কিন্তু তাদের অবস্থা নিয়ে তেমন কাউকে সচেতন হতে দেখা যায় না।
জল: দোলের দিন রং গুলে নেওয়া থেকে স্নানে প্রচুর জল খরচ হয়। জল বাঁচানোও একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্য। আবির দিয়ে রং খেলতে পারেন। বিশেষত ভেষজ আবির বা রং চট করে উঠে যায়। রং উঠতে না চাইলে বার বার সাবান, শ্যাম্পু দিতে হয়। ফলে জলের অপচয় হয়।
হাত ধুয়ে খাওয়া: দোলের সময় শরবত, ঠান্ডাই, মিষ্টি, ফুটকড়াই যেটাই খান— ব্যবহার করুন পরিবেশবান্ধব থালা-গ্লাস। অতিথি আপ্যায়নেও বাদ দিন প্লাস্টিক। বিশেষত শরবত বা ঠান্ডাই খাওয়ার জন্য প্লাস্টিকের গ্লাস ব্যবহার করলে চারপাশে আবর্জনা, দূষণ, দুই-ই বাড়বে। খাওয়ার সময় হাত ধোয়া জরুরি। যদি একান্তই না সম্ভব হয় তা হলে ব্যবহার করুন স্টিলের চামচ।