Advertisement
E-Paper

রোগের নাম অটিজম

অটিজম আক্রান্ত শিশুদের ধরন সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা হয়। কখনও এই শিশুরাই আবার বিশেষ গুণে পারদর্শী হয়। এখন এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতির আমূল পরিবর্তন হয়েছে। জানাচ্ছেন চিকিৎসক অশোক দত্তএই রোগটি নিয়ে আগে অনেকেই সচেতন ছিলেন না। এখন  অটিজম সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। এবং এর ফলে ক্রমেই অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:১১

প্রশ্ন: অটিজম (AUTISIM) কি?

উত্তর: অটিজম হল মস্তিষ্কের বিকাশজনিত সমস্যা।

প্রশ্ন: বর্তমানে অটিজম–এ আক্রান্তের সংখ্যা কেমন?

উত্তর: এই রোগটি নিয়ে আগে অনেকেই সচেতন ছিলেন না। এখন অটিজম সম্বন্ধে মানুষের সচেতনতা বাড়ছে। এবং এর ফলে ক্রমেই অটিজম আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রশ্ন: অটিজম-এ আক্রান্ত শিশুর সমস্যাটি ঠিক কী?

উত্তর: অটিজম এমন একটা অবস্থা যেখানে শিশুটির সামাজিক বিকাশ ঠিকমতো হয় না। এ ধরনের শিশুরা অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলো করতে পারে না। অন্যদের সঙ্গে ঠিকমতো মিশতেও পারে না। এরা একা একা থাকতে ভালবাসে। এবং অনেক ক্ষেত্রে এদের কথা বলা শুরু হতে বেশ দেরি হয়। সাধারণত হাত দিয়ে কোনো জিনিস দেখা বা হাসি-কান্নার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের যে ভঙ্গি শিশুদের মধ্যে দেখা যায় অটিজম-এ আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে তা ঠিকমতো দেখা যায় না। একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি থাকে এবং একই কাজ এরা বারবার করতে থাকে। যেমন, দরজা-জানালা বারবার খোলা বা বন্ধ করা, জলের কল খোলা–বন্ধ আবার ইলেকট্রিকের সুইচ অফ-অন করার মতো কাজ। এদের তাকানোর ধরনটা একটু অন্য রকম। এরা সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে না। এমনকী, নিজের বাবা বা মায়ের চোখের দিকেও এরা চোখ রাখতে পারে না।

এদের বুদ্ধি অন্য শিশুদের মতো হয় না। অটিজম আক্রান্ত শিশুদের চিন্তাভাবনা এবং কর্মপদ্ধতি সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা হয়। কখনও এরা খুব স্পর্শকাতর হয়। আবার কখনও অটিজিম আক্রান্ত শিশুরা বিশেষ গুণের পারদর্শী হয়। কেউ অঙ্কে কেউ বা বিজ্ঞানে সফল হয়। আবার কেউ খুব ভাল গান করতে পারেন। অটিজিম আক্রান্ত কোন কোন ব্যক্তি খেলার জগতে সফল হয়েছেন এমন প্রমাণও আছে। এটাও ঠিক পৃথিবী বিখ্যাত অনেক মনীষী আছেন যাঁরা অটিজিম রোগে ভুগেছেন।

প্রশ্ন: অটিজম হয় কেন ?

উত্তর: অটিজম-এর নানা কারণ আছে। এর মধ্যে যেমন জিন ঘটিত কারণ আছে, তেমনই অনেক অসুখ থেকেও অটিজম হতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমের সংখ্যার হ্রাস বা বৃদ্ধির কারণেও এই রোগ হয়। এই রোগের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখন অনুসন্ধান চলছে। তবে একটা জিনিস বোঝা গিয়েছে তা হল আমাদের মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের বিভিন্ন কোষগুলির পারস্পরিক সংযোগ কমে যাওয়া অথবা স্নায়ু থেকে নিঃসৃত কিছু রাসায়নিক পদার্থের অভাব— ইত্যাদির কারণেও এই রোগ হতে পারে।

বর্তমানে দেখা যায়, শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন মায়ের কোন অসুখ করলে অথবা শিশু ভূমিষ্ঠ হাওয়ার পরে তার শারীরিক অবস্থার কোন ত্রুটি থাকলে মস্তিষ্কের উপরে চাপ পরে। ফলে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরীণ গঠন পরিবর্তিত হতে পারে।

• অন্য শিশুদের সঙ্গে মেশার অক্ষমতা।

• আকারে বা ইঙ্গিতে কোনো কিছু বোঝানোর অক্ষমতা।

• বাবা-মা-সহ অন্যান্যদের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার অক্ষমতা।

• একটি নির্দিষ্ট জিনিসের প্রতি তাদের আকর্ষণ বেশি থাকে এবং একই কাজ এরা বারবার করতে থাকে।

• এরা সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারে না। এমনকী, নিজের বাবা বা মায়ের চোখের দিকেও এরা চোখ রাখতে পারে না।

• আবার কখনও অটিজম আক্রান্ত শিশুরা বিশেষ গুণের পারদর্শী হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন: অটিজম হয়েছে বুঝব কী করে?

উত্তর: বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুটির মা-বাবা প্রথমেই বুঝতে পারে যে তার শিশুটি অন্যান্য শিশুদের থেকে কিছুটা আলাদা। অনেক সময় শিশুদের স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ওই শিশুটির প্রতি বাবা-মার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন যে, শিশুটির আচরণ অন্যদের থেকে আলদা। এ ছাড়াও অনেক সময় মা প্রথম বুঝতে পারে যে তার শিশুটি কথা বলতে পারছে না বা কথা বলতে দেরি হচ্ছে। তখন তারা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তখন রোগটি ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা শুরু করা যায়।

প্রশ্ন: অটিজম-এর চিকিৎসা ব্যবস্থা কী সব জায়গায় আছে?

উত্তর: আমাদের দেশে এই রোগ সম্পর্কে ধারণা খুবই কম। অনেক চিকিৎসকের মধ্যেও এই রোগ নিয়ে সম্যক জ্ঞান কম থাকে। কারণ, চিকিৎসাবিদ্যার প্রাথমিক পাঠে এই রোগটিকে নিয়ে বিশদে আলোচনা করা হয়নি।

প্রশ্ন: অটিজম রোগটিতে শিশুদের কী কী ঘাটতি থাকে?

উত্তর: ১) অন্য শিশুদের সঙ্গে মেশার অক্ষমতা।

২) কথা না বলতে পারলেও আকারে বা ইঙ্গিতে কোন কিছু বোঝানোর অক্ষমতা।

৩) বাবা-মা-সহ অন্যান্যদের সঙ্গে মধুর সম্পর্ক গড়ে তোলার অক্ষমতা।

উপরের তিনটি স্তরেই এই ধরনের শিশুদের ঘাটতি দেখা যায়। এর সঙ্গে শিশুটির ব্যবহারেও বেশ কিছু ত্রুটি দেখা যায়।

প্রশ্ন: অটিজম রোগের ক্ষেত্রে বাবা-মা দের কী করা উচিত?

উত্তর: এই ধরনের কোন লক্ষণ দেখতে পাওয়া গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বর্তমানে অটিজম চিকিৎসার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। এখনও এর চিকিৎসায় নানা গবেষণা হচ্ছে। শিশুটিকে বিভিন্ন ধরনের কাউন্সিলিং, স্পিচ থেরাপি ইত্যাদি করান উচিত। এ ছাড়াও ওষুধ ব্যবহারেও অনেক ভাল ফল পাওয়া গিয়েছে। এখন বিশেষ ভাবে প্রয়োজন এই রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা। যাতে রোগটি সহজে নির্ধারণ করা যায়।

প্রশ্ন: অটিজম-এ আক্রান্ত শিশুরা স্কুলে গেলে কি পড়াশোনা করতে পারবে?

উত্তর: গুরুত্ব অনুসারে, অটিজম আক্রান্ত শিশুদের তিনটি ভাগে করা যায়। সেগুলি হল অল্প, মাঝারি এবং তীব্র। অনেক সময়ে এই রোগের সঙ্গে নানা ব্যবহারিক সমস্যা হয়। এই শিশুদের মধ্যে হাইপার অ্যাকটিভিটি, স্লিপলেসনেস, খিঁচুনি জাতীয় রোগ দেখা যায়। তবে ঠিক সময়ে চিকিৎসা করালে অনেক সময় দেখা গিয়েছে এদের অনেকেই সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসে। তাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এরা যেন স্কুলে যায়। এরা স্বাভাবিক ভাবেই স্কুলে পড়াশুনা করবে যদি না কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে। প্রয়োজনে স্পেশ্যাল স্কুলেও এদের পড়ানো যেতে পারে।

সাক্ষাৎকার: সৌমেন দত্ত

Health Autism অটিজম Autistic Disorder
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy