ভাবছেন, চুলের যত্ন নিচ্ছেন, অথচ অতি আদরে কেশস্বাস্থ্যের বেহাল দশা হচ্ছে। এ দিকে আপনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন প্রসাধনী, জিন এবং নিজের খাওয়াদাওয়াকে। যদিও মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস, যাপন, জিন ইত্যাদি সত্যিই চুলের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু তার পরেও আপনারই কিছু ভুলে চুল ঝরে পড়ার পরিমাণ বেড়ে চলেছে। তাই আগে নিজের বদভ্যাসগুলি কাটিয়ে বেরোতে হবে।
৫ কারণে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়েই চলেছে—
চুল বাঁধা: গরম ও ঘাম থেকে বাঁচতে উঁচু করে চুল বাঁধছেন। চারদিকে ক্লিপ আটকাচ্ছেন, যাতে এক–দু’গোছাও মুখে না পড়ে। কেউ কেউ আবার টানটান কেশসজ্জা পছন্দ করেন, তাই এ ভাবে চুল বাঁধেন অনেকে। কিন্তু এ ভাবে আঁটোসাঁটো করে বাঁধলে চুলের গোড়ায় টান পড়ে। ফলিকলগুলি দুর্বল হয়ে পড়ে। ভাঙন ধরে চুলে। তার ফলে আরও বেশি করে চুল প়ড়তে পারে। তাই টানটান করে চুল বাঁধলেও খেয়াল রাখবেন যাতে গোড়ায় টান না প়ড়ে। একই কারণে রবারের ব্যান্ড ব্যবহার না করে সিল্কের স্ক্রাঞ্চি ব্যবহার করুন।
শ্যাম্পু করা: মাথা ধোয়ায় আলস্য? ‘আজ নয় কাল’ করতে করতে মাথায় জমতে থাকে ঘাম, ধুলোময়লা, অতিরিক্ত তেল, মৃত ত্বকের কোষ। তাতে দুর্বল হতে থাকে চুলের স্বাস্থ্য। মাথার ত্বকে নানা প্রকার সমস্যা দেখা দিতে থাকে। চুলের ফলিকল বন্ধ হয়ে গিয়ে প্রদাহ বাড়তে থাকে। তাই সপ্তাহে একাধিক বার শ্যাম্পু করার চেষ্টা করুন। বিশেষ করে এমন ভ্যাপসা আবহাওয়ায়।
আরও পড়ুন:
তেল মাখা: অনেকেই মাথায় জবজবে করে তেল মেখে ঘুমোতে যেতে পছন্দ করেন। মনে করেন, তাতে রাতভর পুষ্টি পাবে চুল। তার পর সকালে মাথা ধুয়ে ফেলেন। কিন্তু গরমের সময়ে খুব ভারী তেল মেখে শুলে ঘাম, ময়লা জমে থাকে চুলের গোড়ায়। তাতে ফের একই সমস্যা হতে পারে। চুলের ফলিকল বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকে ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি হতে পারে। হয় হালকা তেল মেখে ঘুমোতে যান, নয়তো শ্যাম্পু করার ১-২ ঘণ্টা আগে মেখে নিন। এতে চুলে ভাঙন ধরার ঝুঁকি কমে।
ভিজে চুল: মাথা ধোয়ার পর চুল স্পর্শকাতর হয়ে থাকে। চুলের বাইরের আবরণ, কিউটিকল, সবই দুর্বল হয়ে থাকে। তখন গামছা বা তোয়ালে দিয়ে জোরে জোরে মাথা ঘষলে চুল ছিঁড়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে আগাও ফেটে যায়। ভিজে চুল জোরে জোরে আঁচড়ানোর চেষ্টা করলে বা জট ছাড়াতে থাকলে একই ঘটনা ঘটে। তাই সতর্ক থাকা দরকার। চুল শুকোনোর জন্য আলতো করে গামছা দিয়ে চাপ দিতে হবে আর চওড়া দাঁতের চিরুনি দিয়ে ধীরে ধীরে চুল আঁচড়াতে হবে। মনে রাখবেন, আঁচড়ানোর সময়ে গোড়া থেকে নয়, নীচের দিকটি আগে আঁচড়ে জট ছাড়িয়ে নিতে হবে।
তাপ প্রয়োগ: মাথা ধুয়েছেন, গামছা দিয়ে জল ঝরিয়েছেন, চুল দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তা়ড়ার চোটে এমন সময়েই অনেকে চুল স্ট্রেট করতে বসেন। সিক্ত মাথায় তাপ প্রয়োগ করলে চুলে ভাঙন ধরে। এর ফলে চুলের জল স্ট্রেটনারের তাপ পেয়ে ফুটে ওঠে। একে বলা হয় ‘বাব্ল হেয়ার’। চুলের কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই বদভ্যাসের ফলে। চুল শুকিয়ে নেওয়ার আগে যদি তাপ প্রয়োগ করা হয়, তা হলে চুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।