ওম পুরী ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিমান অভিনেতা। অভিনয় দক্ষতার জন্য যেমন তিনি প্রশংসিত, তেমনই বাচিকশিল্পী হিসাবেও তিনি প্রশংসিত। তবে ওম পুরীর ব্যক্তিগত জীবন বার বার চর্চায় উঠে এসেছে। ওম পুরী প্রয়াত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর হল। অভিনেতার বিয়ে হয় সীমা কপূরের সঙ্গে। তিনি অভিনেতা অনু কপূরের বোন। ওম পুরীর মৃত্যুর পর তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়া থেকে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ আনেন সীমা!
আরও পড়ুন:
১৯৯১ সালে ওম ও সীমার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের আট মাসের মাথায় তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। সীমা জানান, তিনি তখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। সেই সময় ওমের সঙ্গে নন্দিতা কপূরের পরকীয়া হাতেনাতে ধরেন। যার জেরে সীমা বাধ্য হয়ে তাঁর মায়ের কাছে রাজস্থানে ফিরে যেতে বাধ্য হন। যদিও সীমা জানান, সেই সময় ওই সন্তানটা খুব অমূল্য ছিল তাঁর কাছে। কিন্তু তাঁদের সন্তান জন্মের পরেই মারা যায়। সীমা বলেন, ‘‘সহকারীর হাতে আমাকে ২৫ হাজার টাকা পাঠায় ওম। কিন্তু সেই টাকা আমি গ্রহণ করিনি।’’
বিয়ের মাস কয়েক মধ্যে এমন প্রতারণা বোনের জীবনে এমন অঘটন মানতে পারেননি অনু। তিনি ওমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে সীমার কথায়, ‘‘আমাকে সবাই বলেছিল আইনি পদক্ষেপ করতে। আমিই চাইনি।’’ বিয়ের মাস কয়েকের মধ্যে স্বামীর পরকীয়ার খবর জানতে পেরেও সম্পর্ক ভাঙতে চাননি সীমা। তিনি জানান, সেই সময়ের প্রেমিকা নন্দিতার কারণে সীমার সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙতে চান ওম। নন্দিতার নিরাপত্তাহীনতার কারণেই ওম সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। প্রতি দিন মদ্যপান করে ঝগড়াও করতেন।
একই সঙ্গে সীমা জানান, বিবাহবিচ্ছেদ বাবদ ওমের থেকে তিনি ৬ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। সীমার সঙ্গে বিচ্ছেদের বছর দুয়েক বাদে নন্দিতার সঙ্গে বিয়ে হয় ওমের। দীর্ঘ ২০ বছর দাম্পত্যজীবনের পর বিচ্ছেদ হয় ওম-নন্দিতার। বেশ তিক্ততাপূর্ণ বিচ্ছেদ হয় তাঁদেরও।
যদিও ওম শেষ জীবনে সীমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শুধু তা-ই নয়, সীমার কাছে ক্ষমাও চান। ২০১৭ সালে প্রয়াত হন অভিনেতা।