তিন দশক ধরে হিন্দি সিনেদুনিয়ায় রাজত্ব করছেন বলি অভিনেতা শাহরুখ খান। ফিল্মি পরিবারের ছেলে নন, ছিল না নামী বাবার পরিচয়। একটা সময়ে দিল্লির ছেলে শাহরুখ হয়ে উঠলেন মুম্বইয়ের বলিউড ইন্ডাস্ট্রির বাদশা। তাঁর অভিনয়ের শুরুটা হয়েছিল ‘ন্যাশানাল স্কুল অফ ড্রামা’ থেকে। শাহরুখের উত্থান থিয়েটার থেকে ধারাবাহিক হয়ে বড়পর্দায়। তবে একটা সময় এমনও গিয়েছে, যখন এনএসডি-র ছাত্রদের কাছে শিঙাড়া বিক্রি করেছেন শাহরুখ।
আরও পড়ুন:
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে এসে অভিনেতা পঙ্কজ কপূর জানান, শাহরুখ ১০ বছর বয়স থেকে এনএসডি-তে সিঙারা বিক্রি করতেন। পরে ১৯৯৫ সালে শাহরুখের সঙ্গে ‘রাম জানে’ ছবিতে কাজ করেন পঙ্কজ। তখন অবশ্য বুঝতে পারেননি যে, এই ছেলেই এনএসডি-র সেই বাচ্চা ছেলেটা। ১৯৭৬ সালের এনএসডি-র ব্যাচ পঙ্কজের। ওই একই ব্যাচে ছিলেন নাসিরউদ্দিন শাহের মতো অভিনেতা। শাহরুখ নিজেও একাধিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁর শৈশব কেটেছে দেশের অন্যতম সেরা অভিনেতাদের কোলে ঘুরে ঘুরে। এনএসডি-তে শাহরুখের পরিবারের ক্যান্টিন চলত। সেই কারণেই এনএসডি-তে এত সহজ যাতায়াত ছিল তাঁর।
তবে শুধু এনএসডি-তে নয়, অভিনেতার বাবা মীর তাজ় মহম্মদ খানের ‘খাতির’ নামের একটি রেস্তরাঁ ছিল দিল্লির সফদরজঙ্গ এলাকায়। শাহরুখের বাবার মৃত্যুর পরে একটা লম্বা সময় সেই রেস্তরাঁর দায়িত্ব সামলান তাঁর মা। ওই রেস্তরাঁ থেকেই মূলত উপার্জন হত শাহরুখের পরিবারের। শাহরুখ নিজেই জানিয়েছেন, এর পাশপাশি এনএসডি-তে ক্যান্টিনের ব্যবসা চলত তাঁদের। শাহরুখ জানান, ছোটবেলায় স্কুল থেকে ফেরার পরে হাতে প্রায় দু’ঘণ্টা সময় থাকত তাঁর। সেই সময়ে তিনি বোনের জন্য অপেক্ষা করতেন এনএসডি-তে বসে। সেই ফাঁকেই শিঙাড়া নিয়ে চলে যেতেন সেখানকার ছাত্রদের কাছে। যদিও সেই সময়ে শাহরুখ একেবারেই ছোট। সেই ভাবেই নাকি শাহরুখের নাটকের প্রতি অনুরাগ জন্মায়।