ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে যাপনও পাল্টে যায়। খাওয়াদাওয়া থেকে শুরু করে ত্বকচর্চা, স্বাস্থ্যচর্চা বা কেশচর্চার রূপও বদলে যায়। আবহাওয়াই যেন হয়ে ওঠে নির্ধারক। চারিদিক যখন ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল, ত্বকের স্বাস্থ্যরক্ষা নিয়েও নতুন করে ভাবা দরকার। কারণ, গরম পড়তেই ত্বকের আচরণ বদলে যায়। এক দিকে অতিরিক্ত তেলচিটে ভাব, অন্য দিকে জলশূন্যতা, তার উপর রোদে পোড়া আর ব্রণের সমস্যা।
ঘাম, ধুলো, তেল, রোদে পোড়ার মতো অত্যাচার থেকে ত্বককে বাঁচান। ছবি: সংগৃহীত
অনেকেই কেবল ক্লিনজ়িং, ময়েশ্চারাইজ়িং এবং সানস্ক্রিন মেখে ত্বকের যত্ন নেন। তবে এমনও অনেকে রয়েছেন, যাঁদের এই সাদামাঠা রুটিনে মন ভরে না, ত্বকও ভাল হয় না। তাঁদের জন্য কার্যকরী হতে পারে নতুন ধরনের ত্বকচর্চার রুটিন, যা বিশেষ করে গরমের সময়ে উপযুক্ত। আপনার ত্বক যাতে ঘাম, ধুলো, তেল, রোদে পোড়ার মতো অত্যাচার সহ্য করতে পারে, তার জন্য বিশেষ রুটিনের কথা জানাচ্ছেন অহমদাবাদের চর্মরোগ চিকিৎসক সুরভী বালানি।
রইল ৮ ধাপের রুটিনের সন্ধান—
১. গরমের সময়ে ঘাম এবং তেল দ্রুত রোমকূপ বন্ধ করে দেয়। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে স্নানের সময়ে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ক্লিনজ়ার ব্যবহার করুন।
২. সকালের ত্বক পরিচর্যায় নায়াসিনামাইড ব্যবহার করলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নিয়ন্ত্রণে থাকে, লালচে ভাব কমে এবং ত্বকে ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. ঘাম থেকে হওয়া ব্রণ সামলাতে ‘অ্যান্টি ড্যানড্রাফ’ বা খুশকি কমানোর শ্যাম্পুও গায়ে মাখতে পারেন। এতে থাকা উপাদান ত্বকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
ত্বকের যত্নে শ্য়াম্পুও ব্যবহার করুন। ছবি: সংগৃহীত
৪. ত্বকের তেলচিটে ভাব কমানোর জন্য ফেসওয়াশ দিয়ে ঘন ঘন মুখ না ধুয়ে ব্লটিং পেপার ব্যবহার করা ভাল। আপনার প্রসাধনী বাক্সের এই কাগজ তেলও দূর করবে, আবার ত্বককে অতিরিক্ত ঘর্ষণের ক্ষতি থেকেও রক্ষা করবে।
৫. গরমের সময়ে সাঁতার কাটার অভ্যাস? জলে থাকা ক্লোরিন ত্বকের স্বাভাবিক তেল শুষে নেয়। ফলে ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। সাঁতারের পর সেরামাইডযুক্ত লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতা ফিরে আসে এবং সুরক্ষা স্তর ঠিক থাকে।
৬. গরমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সানস্ক্রিনের ব্যবহার। শুধু এক বার নয়, বার বার মুখে লাগাতে হবে। ক্রিম হিসাবে মুখে মাখতে অসুবিধা হলে স্প্রে বা মিস্ট ধরনের সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন। সহজেই ঘন ঘন প্রয়োগ করা যায়, আবার মেকআপের উপরেও স্প্রে করা যায়।
আরও পড়ুন:
৭. ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে বেনজ়য়েল পারঅক্সাইড যুক্ত ক্লিনজ়ার ব্যবহার করতে পারেন বিশেষ করে বাহুমূল এবং ঘাড়ে। এতে শরীরের দুর্গন্ধ ও ব্যাক্টেরিয়া, দুই-ই কমবে।
৮. শুধু প্রসাধন নয়, পোশাকও ত্বককে রক্ষা করতে পারে। ইউপিএফ-যুক্ত হালকা জামা পরলে রোদ থেকে বাড়তি সুরক্ষা পাওয়া যায়।