ত্বকের পরিচর্যার ধরন বদলাচ্ছে রোজ। নতুন নতুন প্রসাধনীর আবিষ্কার এবং চাহিদা পাল্টে যাওয়ার চক্র ঘুরেই চলেছে। ঠিক যেমন ভাবে আগে আপনি ঘরোয়া টোটকা (নুন, চিনি ইত্যাদি) প্রয়োগ করে মুখের ত্বক থেকে মৃত ত্বক দূর করতেন, ধীরে ধীরে তার বদলে এল নানাবিধ এক্সফোলিয়েটর। ফেসওয়াশের মধ্যেই থাকত নানা রকমের দানাযুক্ত উপাদান, যা মুখে ঘষে মৃত ত্বক ফেলে দিতে হত। এখন এক্সফোলিয়েশনের জন্য আর কোনও প্রকার ঘষাঘষির প্রয়োজন নেই। কারণ, নতুন প্রজন্মের অনেকেই, যেমন সারা তেন্ডুলকর বেছে নিচ্ছেন কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর।
রাসায়নিকযুক্ত এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করলে কী হয়? ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের একটি ভিডিয়োয় সারা জানিয়েছেন, আগে তিনি স্ক্রাব ব্যবহার করে ত্বকচর্চা করতেন। এখন তার বদলে রাসায়নিকযুক্ত এক্সফোলিয়েন্ট ব্যবহার করতে বেশি পছন্দ করেন। কারণ, স্ক্রাব দিয়ে ঘষে ঘষে ত্বক পরিষ্কার করলে বেশি রুক্ষ হয়ে যায়। কিন্তু রাসায়নিকযুক্ত এক্সফোলিয়েন্টে ত্বক অনেক বেশি নরম থাকে। চর্মরোগ চিকিৎসদের মতে, ফিজ়িক্যাল স্ক্রাব, যেমন দানাদার উপাদানযুক্ত স্ক্রাব ত্বকের উপর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি করতে পারে। এই ক্ষুদ্র ক্ষত চোখে দেখা না গেলেও ত্বকের উপরের স্তরকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে পরবর্তীতে ত্বক নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই অনেকে ঘষাঘষির বিরোধিতা করছেন।
কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট একেবারেই আলাদা ভাবে কাজ করে। এতে থাকা অ্যাসিড ত্বকের উপরের মৃত কোষকে মৃদু ভাবে আলগা করে দেয়, ফলে কোনও রকম ঘষাঘষি ছাড়াই ত্বক পরিষ্কার হয়। এতে ত্বক মসৃণ হয়, ঔজ্জ্বল্য বাড়ে এবং অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রীও ভাল ভাবে শোষিত হতে পারে ত্বকে।
তবে এখানেও সতর্কতা জরুরি। সব ত্বকের জন্য সব ধরনের এক্সফোলিয়েন্ট উপযুক্ত নয়। যেমন, শুষ্ক ত্বকের জন্য মৃদু উপাদান প্রয়োজন, আবার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য আলাদা উপাদান দরকার হতে পারে। তাই নিজের ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করা উচিত। আর এক্সফোলিয়েশন যতই উপকারী হোক, তার অতিরিক্ত ব্যবহারে উল্টে ক্ষতি হতে পারে। ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অন্য দিকে, ফিজ়িক্যাল স্ক্রাব যে সব ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক, তা-ও নয়। কোনও কোনও ত্বকের ক্ষেত্রে মৃদু ভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে, অতিরিক্ত প্রয়োগ করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।