ভাত মজিয়ে যে ভাবে মদ তৈরি হয় সেই একই প্রক্রিয়ায় তৈরি হয় কজিক অ্যাসিড। আর এই উপাদানটিই আপাতত ত্বকের যত্নের যে আধুনিক পদ্ধতি, তার আলোচনার কেন্দ্রে। এর কার্যকারিতার বিজ্ঞাপন করছেন খাস বলিউডের তারকারাও।
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন সম্প্রতি তাঁর সমাজমাধ্যমের পাতায় কজিক অ্যাসিডের গুণাগুণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। কৃতি নিজের প্রসাধনীর ব্র্যান্ড তৈরি করছেন। নিজের ব্র্যান্ডের পণ্য সম্পর্কে বলতে গিয়েই তিনি উল্লেখ করেছেন কজিক অ্যাসিডের উপকারিতার কথা। কৃতি বলছেন, ‘‘ত্বকের ভোল বদলে দেওয়ার জন্য যে দু’-একটি উপাদানে চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়, তার একটি হল কজিক অ্যাসিড।’’ কিন্তু কজিক অ্যাসিড ঠিক কী? তা কী ভাবেই বা ত্বকের ভোল বদলে দিতে পারে?
বিজ্ঞান বলছে, কজিক অ্যাসিড এক ধরনের জৈব যৌগ। তা যেমন ভাত মজানোর প্রক্রিয়ায় তৈরি হতে পারে, তেমনই এটি অ্যাসপারগিলাস ওরিজ়ে নামের এক ধরনের ছত্রাক থেকেও বানানো যায়। এ হেন কজিক অ্যাসিড ত্বকে লাগালে তা ত্বকের কালচে ছোপ বা যে কোনও দাগ হালকা করে ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।
কী ভাবে কাজ করে?
১. মেলানিন উৎপাদনে বাধা দেয়
ত্বকের রঙ যে ফ্যাকাসে নয়, তার জন্য দায়ী মেলানিন। কিন্তু ত্বকে মেলানিন বেশি তৈরি হতে শুরু করলে কালচে ছাপ বা হাইপারপিগমেন্টেশন হয়। কজিক অ্যাসিড ত্বকের ‘টাইরোসিনেজ’ নামের এনজাইমের কার্যকারিতা কমিয়ে মেলানিন তৈরি হওয়া কমিয়ে দেয়। ফলে নতুন করে কালচে ছোপ পড়ে না।
২. দাগছোপ দূর করে
ত্বকে কালচে ছোপ পড়তে পারে নানা কারণে। কারও ত্বক রোদে জ্বলে গেলে কালচে ছোপ পড়তে পারে। কারও ক্ষেত্রে ত্বকের রং অনুজ্জ্বল হয়ে যেতে পারে বয়সজনিত কারণে। ব্রণ হওয়ার পরেও অনেকের ত্বকে কালচে দাগ হয়ে যায়। আর এই দাগ কমাতেই কজিক অ্যাসিড কাজে দেয় সবচেয়ে বেশি।
৩. মেছেতা বা মেলাজমার চিকিৎসায়
গর্ভাবস্থায় বা হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ত্বকে মেছেতার দাগ পড়লে তা কমানোর জন্য কজিক অ্যাসিড কাজে লাগতে পারে।
৪. অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল
এ ছাড়া ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকজনিত কারণে ত্বকে যে ব্রণের সমস্যা হয়, তা কমাতেও সাহায্য করতে পারে কজিক অ্যাসিড। কারণ, এটি অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গালও বটে।
ছবি : সংগৃহীত।
ব্যবহারের উপায়
কজিক অ্যাসিড মূলত সিরাম, ক্রিম, সাবান বা ফেসওয়াশ হিসাবে পাওয়া যায়। এর মধ্যে সিরাম বা ক্রিম সবচেয়ে বেশি কার্যকর, কারণ এগুলি ত্বকে বেশি ক্ষণ থাকে। যেহেতু ফেসওয়াশ বা সাবান ত্বকে অল্প সময় থাকে, তাই এগুলি কাজ করে দেরিতে। তবে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁরা ফেসওয়াশ দিয়ে কজিক অ্যাসিডের ব্যবহার শুরু করতে পারেন।
কোন সময়ে ব্যবহার করবেন?
কজিক অ্যাসিড ব্যবহার করার সবচেয়ে নিরাপদ সময় হল রাতে ঘুমোনোর আগে। প্রথমে কোনও মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তার পরে সামান্য পরিমাণে কজিক অ্যাসিড সিরাম বা ক্রিম দাগের উপরে অথবা পুরো মুখে মেখে নিন। ৫-১০ মিনিট পর একটি ভাল ময়েশ্চারাইজ়ার লাগিয়ে নিন, যাতে ত্বক আর্দ্র থাকে।
ছবি : সংগৃহীত।
সতর্কতা
১। কজিক অ্যাসিড ব্যবহার করলে ত্বক রোদে পুড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই রাতে ব্যবহার করলে পরের দিন অন্তত এসপিএফ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। তা ছাড়াও মুখে সরাসরি রোদ পড়তে না দেওয়াই ভাল।
২। কজিক অ্যাসিড অত্যন্ত শক্তিশালী উপাদান। তাই এটি ব্যবহারের সময় রেটিনল বা গ্লাইকোলিক বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড ব্যবহার না করাই ভাল। এতে ত্বক জ্বালা করতে পারে।
৩। শুরুতেই প্রতি দিন কজিক অ্যাসিড ব্যবহার না করে সপ্তাহে ২-৩ দিন সামান্য পরিমাণে ব্যবহার করুন। ত্বকে সয়ে গেলে সপ্তাহে অল্প পরিমাণে ৪-৫ দিন ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪। টানা ৩ মাস কজিক অ্যাসিড ব্যবহার করার পরে ১ মাসের বিরতি দেওয়া ভাল।
৫। দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় বেশি ব্যবহার করলে ত্বকের সুরক্ষা পরত নষ্ট হয়ে ত্বকের উপরের আবরণ পাতলা হয়ে যেতে পারে।
৬। প্রথম বার ব্যবহারের আগে অবশ্যই হাতের ত্বকে অল্প পরিমাণে লাগিয়ে প্যাচ টেস্ট করুন। অ্যালার্জি বা অন্য কোনও ধরনের অস্বস্তি না হলে তবেই মাখুন মুখে।
৭। কজিক অ্যাসিড লাগিয়ে মুখে অবাঞ্ছিত কোনও পরিবর্তন হচ্ছে বুঝলে অবিলম্বে ব্যবহার বন্ধ করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।