বর্ষায় বাতাসে ধুলোবালি ওড়ার মাত্রা অন্য সময়ের থেকে সামান্য হলেও কম থাকে। ফলে চুলে ধুলোবালি লেগে নোংরা হওয়ার সুযোগ কম। সেক্ষেত্রে কি বর্ষাকালে চুলে ঘন ঘন শ্যাম্পু না করলেও চলবে? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। তার উত্তর সোজা সাপটা নয়।
প্রথমত, বর্ষাকালে বাইরে ধুলোবালি কম মনে হলেও, বাতাসে আর্দ্রতা বা গুমোট ভাব অনেক বেশি থাকে। এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে স্ক্যাল্প বা মাথার ত্বক অতিরিক্ত ঘেমে যায়। ফলে সিবাম (তেল) নিঃসরণ বাড়ে, যা চুলের গোড়ায় ধুলোময়লা এবং ব্যাকটেরিয়াকে আরও বেশি করে আটকে রাখে। তাই ধুলো কম—এই ভেবে শ্যাম্পু কম করলে চুলের ক্ষতিই বেশি হবে।
দ্বিতীয়ত, যাঁদের চুল পড়ার সমস্যা রয়েছে, বর্ষায় তাঁদের বাড়তি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। মাথার ত্বক নোংরা এবং স্যাঁতসেঁতে থাকলে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা খুশকির উপদ্রব বাড়ে, যা চুল পড়ার গতিকে দ্বিগুণ করে দেয়। বৃষ্টির জল মাথায় লাগলে তাতে থাকা রাসায়নিক ও দূষিত কণা চুলের গোড়া নরম করে দেয়। তাই চুল পড়া কমাতে স্ক্যাল্প পরিষ্কার রাখা আবশ্যিক।
ক’দিন অন্তর শ্যাম্পু করা উচিত?
১। চুলের ধরন এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে শ্যাম্পু করার নিয়ম ঠিক করা উচিত।
২। তৈলাক্ত স্ক্যাল্প হলে ও নিয়মিত বাইরে গেলে সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ দিন মাইল্ড বা সালফেট-মুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত।
৩। স্বাভাবিক বা শুষ্ক চুল হলে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট।
৪। চুল পড়ার সমস্যা থাকলে সপ্তাহে ২-৩ বার অ্যান্টি-হেয়ারফল বা ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু রোজ ব্যবহার করলে চুল আরও রুক্ষ হয়ে ঝরে যেতে পারে।
৫। বর্ষায় শ্যাম্পু করার পর চুল ভাল করে শুকানো অত্যন্ত জরুরি। তবে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহারের চেয়ে পাখার হাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে শুকানোই চুলের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।